বেশ কিছু বিষয় মাথায় রেখে ক্রিকেটের আইনে বড় পরিবর্তন আনলো মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। এখন থেকে আগের ‘অবৈধ’ ঘোষিত কিছু ব্যাটকেও বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, একাধিক দিনের ক্রিকেটে (টেস্টসহ) দিনের শেষ ওভারে যদি উইকেট পড়ে, তবুও ওভার শেষ হবে না। পুরো ওভার সম্পন্ন করতে হবে এবং নতুন ব্যাটারকে মাঠে নেমে খেলা শুরু করতে হবে।
মঙ্গলবার এমসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সংস্করণের ল অব ক্রিকেট প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, মোট ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পাশাপাশি ভাষাগত কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। ২০১৭ সালের কোড কার্যকর হওয়ার পর এটি এমসিসির তৃতীয় বড় সংশোধন। এর আগে ২০১৯ ও ২০২২ সালে আইন হালনাগাদ করা হয়েছিল।
নতুন আইনগুলো ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এর আগে আইসিসির ক্রিকেট কমিটির বৈঠকে এসব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হবে এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্লেয়িং কন্ডিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে এই আইন প্রয়োগ করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর ছেড়ে দিয়েছে এমসিসি।
সংস্থাটি জানায়, দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যাটিং দলের জন্য সুবিধাজনক এবং ম্যাচের নাটকীয়তা নষ্ট করে। কারণ এতে নতুন ব্যাটারকে কঠিন পরিস্থিতিতে খেলতে নামতে হয় না, অথচ পরদিন আবার বাকি বলগুলো খেলতেই হয়।
এমসিসির ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘শেষ ওভারে উইকেট পড়লে ব্যাটিং দল নতুন ব্যাটার পাঠাতে বাধ্য না হওয়াটা অন্যায্য। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে শেষ ওভার সম্পূর্ণ বল করা হবে, উইকেট পড়লেও।’
বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে বল ভেতরে ঠেলে দিয়ে আবার এসে ক্যাচ ধরা (বানি হপ) এখন আর আগের মতো সহজ হবে না। ফিল্ডার বাউন্ডারির বাইরে থেকে এসে শূন্যে থাকা অবস্থায় একবারই বল স্পর্শ করতে পারবেন। এরপর ক্যাচটি পূর্ণ করতে হলে তাকে অবশ্যই বাউন্ডারির ভেতরে থাকতে হবে। আইসিসি অবশ্য এরই মধ্যে প্লেয়িং কন্ডিশনে এই নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
নতুন আইনে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্লাব ক্রিকেটে ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে এমসিসি। বিভিন্ন ধরনের কাঠ একত্র করে তৈরি এই ব্যাটের দাম তুলনামূলক কম। দীর্ঘ সময় ধরে উইলো গাছ বড় হওয়া ও ব্যাটের চাহিদা বাড়ায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০১৭ সালে কেবল জুনিয়র ক্রিকেটে ল্যামিনেটেড ব্যাট অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এমসিসি জানিয়েছে, এই ব্যাট পারফরম্যান্সে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা দেয় না। কোন পর্যায়ে এই ‘টাইপ ডি’ ব্যাট ব্যবহার হবে, তা সংশ্লিষ্ট জাতীয় বোর্ড ঠিক করবে।
হিট উইকেট আইনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, ব্যাটার বল খেলার পর ভারসাম্য হারিয়ে কিছুক্ষণ পরও যদি স্টাম্পে পড়ে যান, তবে তিনি আউট হবেন। তবে ব্যাটার ভারসাম্য ফেরানোর সময় কোনো ফিল্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্টাম্পে পড়লে সেটি হিট উইকেট হবে না।
এছাড়া ব্যাট হাত থেকে ছুটে সরাসরি স্টাম্পে লাগলে ব্যাটার আউট হবেন। কিন্তু ব্যাট আগে উইকেটকিপার বা অন্য খেলোয়াড়কে স্পর্শ করে পরে স্টাম্পে লাগলে তা আউট হিসেবে গণ্য হবে না।
ওভারথ্রো আইনে স্পষ্ট পার্থক্য করা হয়েছে ‘ওভারথ্রো’ ও ‘মিসফিল্ড’-এর মধ্যে। স্টাম্প লক্ষ্য করে বল ছোড়ার চেষ্টা ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য হবে, তবে কেবল বল থামানোর বা ফিল্ডারকে দেওয়ার চেষ্টা মিসফিল্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
ডেড বল আইনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন বলকে ডেড ঘোষণা করতে তা আর বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ফিল্ডারের হাতে বা মাঠে স্থির থাকলেও আম্পায়ার প্রয়োজনে বলকে ডেড ঘোষণা করতে পারবেন। এতে বিশেষ করে হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের শেষ বলের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছে এমসিসি।
ম্যাচের শেষ ইনিংসে কোনো অধিনায়ক এখন থেকে ইনিংস ঘোষণা বা ডিক্লেয়ার করতে পারবেন না।
সময়ের আলো/এআর