নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির কাছে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রার্থিতা হারানো বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে কুমিল্লার আদালতে অবস্থিত কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন।
এর আগে ‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।’ বিএনপির নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির এমন বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় তাকে তলব করে ওই নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
মঙ্গলবার রাতে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি এক নোটিশে জানায়, ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মঞ্জুরুল আহসানকে আজ বেলা আড়াইটার মধ্যে লিখিত বক্তব্যসহ সশরীর হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলে।
অনুসন্ধান কমিটির কাছে ব্যাখ্যা দেওয়া শেষে সেখান থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মঞ্জুরুল আহসানের নিয়োগ করা আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মেজবাহ। এ সময় আইনজীবী দাবি করেন, ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি তার মক্কেল দেননি। তবে পাশে থাকলেও মঞ্জুরুল আহসান এ সময় কোনো কথা বলেননি।
হামিদুল মেজবাহ বলেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে শোকজ করা হয়। আমরা যথাযথ নিয়মে লিখিত শোকজ নোটিশের জবাব দিয়েছি। আদালতের কাছে আমরা বলেছি, দরকার হলে এই ভিডিও ফরেনসিক পরীক্ষা করানো উচিত। মাননীয় আদালত সব বিষয় আমলে নিয়েছেন। ওনারা (আদালত) পরবর্তী সময়ে আমাদের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আদেশ জারি করবেন। তবে সেটি হয়তো নির্বাচনের পরে হবে।
প্রসঙ্গত, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ঋণ খেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল করে আদালত। প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর আসনটিতে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। গত সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার বাকসার গ্রামে ট্রাক প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত একটি উঠান বৈঠকে ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। এ ঘটনায় গতকাল রাতে বিএনপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
সময়ের আলো/আআ