ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে লাখো মানুষ গ্রামের উদ্দেশে চট্টগ্রাম নগরী ছেড়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে অলিগলি, আবাসিক এলাকা ফাঁকা হতে থাকে। বিকালে নগরীতে চিরচেনা কোলাহল ছিল না। বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে দোকাট পাট বন্ধ। বিক্রেতারা বসে আছেন ক্রেতার আসায়।
এদিকে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সবকটি আসনে ২৫ রাজনৈতিক দলের ১১৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনকে ঘিরে ১ হাজার ৯৬৫ ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ভোট কেন্দ্রে রেকি করা সম্পন্ন হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ৬৫৩ ভোটকেন্দ্র নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। ১৬ সংসদীয় আসনে ১২ হাজার ১টি ভোট কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে। ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগেই প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় ব্যালট পেপারসহ সকল নির্বাচনি সামগ্রী সহকারী রিটার্নিং অফিসারের পৌঁছে গেছে।
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা বুধবার সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় নির্বাচনের ব্যালট পেপারসহ সকল নির্বাচনি সামগ্রী নিয়ে ভোট কেন্দ্রে অবস্থান নেন।
সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব শতভাগ নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে ফ্রি, ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের সংসদীয় এলাকাগুলোতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে নেমেছে। শনিবার থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ শুরু করেছে তারা।’
জেলা নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোট কেন্দ্রগুলোকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো মূলত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই ভোট কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই করা হয়েছে। দূরত্ব অনুযায়ী নিরাপত্তার ছক সাজানো হয়েছে। এছাড়াও ভোটের দিন সবগুলো কেন্দ্রেই নিরাপত্তার বাড়তি ব্যবস্থা থাকবে।’
বুধবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল টিমের গাড়ি ঘন ঘন প্রদক্ষিণ করছে বিভিন্ন সড়ক। নগরীর টাইগার পাস ও দুই নম্বর গেট এলাকায় সেনাবাহিনীর তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করতে দেখা গেছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দিনভর তল্লাশি চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ও টহলের কারণে ভোটারদের মধ্যে বেড়েছে আস্থা।
সময়ের আলো/কেএইচও