ইসলাম ধর্মের অন্যতম মহিমান্নিত পবিত্র রমজান মাসের প্রথম তারাবির নামাজে অংশ নিতে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গনে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মুসলিম উপস্থিত হন। গতকাল মঙ্গলবার তারা তারাবির নামাজ আদায় করেন। এ খবর জানিয়েছে, বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময় পুরো এলাকা ঘিরে রাখে ইসরায়েলি পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসলাম ধর্মের অন্যতম মহিমান্নিত এই বিধান পালনে মসজিদের ভেতর ও খোলা উঠোন পূর্ণ হয়ে যায় মুসল্লিদের উপস্থিতিতে। এই সময় আল-আকসা মসজিদের খতিব সৈয়দ ইউসুফ আবু স্নেইনাহ নামাজ পরিচালনা করেন। অনলাইনে শেয়ার হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদ কমপ্লেক্সের ভিতরে অবস্থান করছে এবং মুসল্লিদের মধ্যে চলাফেরা করছে।
দিনের শুরুতে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিন অঞ্চলের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ হুসেন ঘোষণা করেন, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে মুসলিমদের পবিত্র মাস রমজান শুরু হবে। তিনি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইসলামিক আইন অনুসারে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে এবং বুধবার রমজানের প্রথম দিন।’
এদিন অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে, বিশেষ করে পুরাতন শহর, আল-আকসা প্রাঙ্গণ এবং এর আশেপাশে উত্তেজনা বৃদ্ধি উপেক্ষা করে এ নামাজ আদায়ে একত্রিত হন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
ইউরো-মেডিটেরানিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, রমজান শুরুর আগে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ তীব্র হয়েছে। যার ফলে, উপাসনাস্থলগুলোতে প্রবেশে প্রভাব পড়েছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্যমতে, ২০২৬-এর শুরু থেকে আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশের ওপর ২৫০-এর বেশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি গত সোমবার সন্ধ্যায় আটক করা হয়, আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও মসজিদে এক সপ্তাহের জন্য প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা করে ইসরায়েল প্রশাসন।
সময়ের আলো/এনএ