জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় প্রেমিকার বাবার করা মামলায় প্রেমিক আপেল মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, দণ্ডপ্রাপ্ত আপেলের সহপাঠী ও স্বজনরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেলান্দহ উপজেলার ছবিলাপুর এলাকার বাসিন্দা প্রেমিক আপেল মিয়া ও প্রেমিকা নাবিলা একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুজনের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছু দিন পর মেয়ের বাবা লাল মিয়া আপেলের নামে অপহরণের মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
আপেল কারাগারে থাকাবস্থায় মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয় লাল মিয়া। বিয়ের কিছুদিন পর আপেল জামিনে মুক্ত হন। দীর্ঘ পাঁচ বছর বিচার প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আপেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত।
তারা অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি প্রেমঘটিত বিষয় হলেও প্রভাব খাঁটিয়ে অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা আপেল মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তার মুক্তি দাবি করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আপেলের খালা ইসরাত জাহান বলেন, দুজনের সম্মতিতেই বিয়ে হয়েছিল। পরে জোরপূর্বক তালাক নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের পরিবারকে এলাকা থেকে উচ্ছেদ ও পরিবারের সদস্যদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। দীর্ঘদিন পর এই মামলায় আদালত যে রায় দিয়েছে, তা আমরা মানি না। এসময় তিনি মেয়ের বাবা লাল মিয়ার বিচার দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আসামির উপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানার রায় প্রদান করেন।
এফআর