মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ব্যবহৃত সুপারট্যাঙ্কারের ভাড়া ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষণ সংস্থা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ জানিয়েছে, বর্তমানে একটি ভিএলসিসি ভাড়া করতে খরচ পড়ছে প্রায় ৪ লাখ ডলার- যা আগে কখনো দেখা যায়নি। জাহাজটি একসঙ্গে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করতে সক্ষম।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেয়, তখনকার তুলনায় পরিবহন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। জাহাজ মালিকরা ঝুঁকি প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দেওয়ায় ভাড়া দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
আইআরজিসির এক কমান্ডার উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জাবারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়াতে পারে। বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি দাম ৮১ ডলারের ঘরে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে এবং অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানিও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে- যতক্ষণ না রাজনৈতিক চাপ প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
বিশ্বের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক তেল পরিবহনের বড় অংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়। এই রুটে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি বাজারে।
এএডি/