ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন রুখে দিতে রাশিয়া তার সামর্থ্যের সবকিছু করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।
বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
লাভরভ জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান যেন অসম্ভব হয়ে ওঠে, সেজন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে ক্রেমলিন। এ লক্ষ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখা হবে। বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি) এবং সাধারণ পরিষদেও(ইউএনজিএ) জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অন্যতম লক্ষ্য পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা এবং ইরান ও আরব প্রতিবেশীদের সম্পর্ক দুর্বল করা।
লাভরভ সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ নীতির ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে। তার মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্য ঘোষণা করলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করতে পারে।
তিনি বলেন, অনেক দেশ এখন মনে করছে যে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকলে তাদের ওপর সহজেই চাপ সৃষ্টি করা যায়, যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
বৈঠকের শেষদিকে লাভরভ সামরিক উত্তেজনা কমাতে খোলামেলা ও আন্তরিক সংলাপের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংঘাত আরও বাড়লে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত সামরিক অভিযানে ইতোমধ্যে বিপুল ব্যয় হয়েছে। যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়েই মার্কিন করদাতাদের প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় বহন করতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সরাসরি সামরিক ব্যয় ৪০ থেকে ৯৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, আর সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও অনেক বেশি হতে পারে। ( সূত্র : প্রেস টিভি)
এফআর