পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিনে রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকেই ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের দিন সকালে পর্যটকদের আগমন শুরু হলেও দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে সৈকতে উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে সন্ধ্যার পর থেকে চিত্র বদলাতে শুরু করে। আর রোববার দুপুর নাগাদ পুরো সৈকত লোকে-লোকারণ্য হয়ে পড়ে। কেউ বন্ধুদের নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন, কেউবা মেতেছেন নোনা জলে জলকেলিতে। আবার অনেককে বালুচরে ছবি তোলা বা ছাতার নিচে বসে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা গেছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাশেদ জোয়ারদার জানান, পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটি কাটাতে কুয়াকাটা এসেছি। আবহাওয়া এখন বেশ অনুকূলে, তাই ঘুরে খুব শান্তি পাচ্ছি।
আরেক পর্যটক সুমি আক্তার বলেন, সমুদ্রের ঢেউ আর খোলা হাওয়া—সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দটা এখানে পূর্ণতা পেয়েছে।
এদিকে, পর্যটকের ভিড়ে হাসি ফুটেছে কুয়াকাটার ব্যবসায়ীদের মুখেও। পবিত্র রমজান মাসজুড়ে কুয়াকাটা প্রায় পর্যটকশূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন কেন্দ্রটি। এতে অধিকাংশ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট এখন বুকিংয়ে পরিপূর্ণ। ফলে দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী।
আবাসিক হোটেল কানসাই ইন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমীন বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের এমন উপস্থিতি আমাদের ব্যবসায় নতুন গতি এনেছে। আশা করছি সামনের দিনগুলোতেও এই ধারা বজায় থাকবে।
অন্যদিকে, গত এক মাস পর্যটকদের সমাগম কম থাকায় সৈকতে প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। সমুদ্রের পাড়জুড়ে বেড়েছে লাল কাঁকড়া ও অতিথি পাখির বিচরণ। সমুদ্রের ঢেউয়ের পাশাপাশি এই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যও বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে পর্যটকদের।
পর্যটকদের বাড়তি ভিড় সামলাতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক জয়ন্ত বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এফআর