মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে “সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধান” বিষয়ে গত দুই দিনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার সাফল্যের ভিত্তিতে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর যেকোনো সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, এই স্থগিতাদেশ চলমান বৈঠক ও আলোচনা সফল হলে কার্যকর হবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসে কয়েক দিনের তীব্র উত্তেজনার পর। এর আগে তিনি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি হরমুজ প্রণালীর নিরাপদ চলাচলের পথ নিশ্চিত না করা হয়, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে। ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা পাল্টা হুমকি দিয়েছেন যে, তেমন হলে তারা পুরো অঞ্চলে, বিশেষ করে ইসরাইল ও গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে। তারা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করারও হুমকি দিয়েছিল।
ট্রাম্পের সাময়িক স্থগিতাদেশের পর তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১৭ ডলার বা ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে গেছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটও প্রায় ১৩.৫ শতাংশ কমে ৮৫.২৮ ডলারে নেমেছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ হওয়ার কারণে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারের উপরে পৌঁছেছিল।
এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ ট্রাম্পের দাবি এবং ইরানের দাবি একেবারেই ভিন্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফলপ্রসূ আলোচনার কথা বললেও, ইরান পুরোপুরি যোগাযোগের অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনো কমেনি, বরং দুই পক্ষের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও, তেহরান থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, “ইরানের কঠোর সতর্কবার্তার” পর ট্রাম্প হামলা থেকে বিরত রয়েছেন।
ট্রাম্পের ঘোষণা আসে কয়েকদিনের তীব্র উত্তেজনার পর। এর আগে তিনি ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন, যেখানে হুমকি ছিল—যদি ইরান হরমুজ প্রণালীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত না করে, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে। এই হুমকির পর ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছিলেন যে, তারা ইসরাইলসহ পুরো অঞ্চলের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল।
ট্রাম্পের পাঁচ দিনের জন্য হামলা স্থগিতের ঘোষণা তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১৭ ডলার বা ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটও প্রায় ১৩.৫ শতাংশ কমে ৮৫.২৮ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ থাকার কারণে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারের উপরে উঠেছিল।
ট্রাম্পের সাময়িক স্থগিতাদেশের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও ইরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়ে দ্বন্দ্ব এবং অনিশ্চয়তা এখনো বজায় আছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলছে।