ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিরচেনা ‘আর্ট অব দ্য ডিল’ বা চুক্তি করার যুদ্ধকৌশল এবার ইরানের অনড় অবস্থানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
চার সপ্তাহ আগে ইরানে হামলার মাধ্যমে যে সংকটের সূত্রপাত ট্রাম্প করেছিলেন, তা থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি এখন আলোচনার একটি বয়ান তৈরি করতে মরিয়া। তবে তেহরান নতি স্বীকার করার কোনো প্রকাশ্য ইঙ্গিত এখনও দেয়নি, যা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এক দিশাহীন ও বিভ্রান্তিকর অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় মার্কিন কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প দাবি করে বলেন, ইরান চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী। তবে দেশটির জনগণের ভয়ে ইরানের সরকার তা প্রকাশ করছে না। তিনি আরও বলেন, তারা আমাদের কাছ থেকেও ভয় পাচ্ছে যে, আমরা তাদের হত্যা করব।
এর ঠিক পরদিনই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ইরানি আলোচকদের ‘অদ্ভুত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা সামরিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং চুক্তির জন্য ‘অনুরোধ’ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবতার সঙ্গে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিস্তর ফারাক রয়েছে। একদিকে তিনি অগ্রগতির দাবি করছেন, অন্যদিকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এটি ট্রাম্পের সেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির (নতুন যুদ্ধ শুরু না করা) সম্পূর্ণ বিপরীত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সেনাদের যুদ্ধে পাঠানোর যেকোনো সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য বিশাল ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ এতে অনেক মার্কিন সেনা হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে যে অর্থনৈতিক ধাক্কা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে, তার চেয়েও বড় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
তাই ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা এর চেয়ে জরুরি আর হতে পারে না।
যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিক বার্তা পাঠালেও কোনো আলোচনা চলছে না।
বিশ্লেষকদের দাবি, একদিকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি, অন্যদিকে হঠাৎ পিছু হটে আলোচনায় সম্ভাব্য অগ্রগতির ঘোষণা—ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের চরম উথান-পতনের পরিচয় বহন করে। কিন্তু সামরিক শক্তির দিকে ঝুঁকে আবার কূটনীতির ইঙ্গিত দেওয়ার পেছনে একটি কঠিন বাস্তবতাও রয়েছে, আর সেটা হচ্ছে এই যুদ্ধ নিরসনে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা খুবই দুর্বল।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক শান্তি আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার সিএনএন-কে বলেন, ইরান এমন মূল্য দাবি করছে, যা ট্রাম্প দিতে প্রস্তুত নন। ফলে তার সামনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো ছাড়া উপায় নাও থাকতে পারে। এটি এখন আর ‘পছন্দের যুদ্ধ’ নয়, বরং ‘প্রয়োজনের যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে।
ট্রাম্প বরাবরই জনমতকে নিজের মতো করে রূপ দিতে দক্ষ। কিন্তু এবার যদি তিনি নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রেখে কোনো সমাধান চান, তবে তাকে বাস্তবমুখী অগ্রগতি দেখাতে হবে। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মার্কিন স্থলবাহিনী বড় কোনো অভিযানে জড়াবে কি না, সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে ট্রাম্পকে।
এফআর