ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরনবী সরকারকে মারধরের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে দিনাজপুর শহরের সুইহারি ড্রাইভারপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করে রানীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারি।
পুলিশ সূত্রে ও অভিযোগে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনকালে পিআইও নুরনবী সরকারের ওপর হামলা চালায় মামুন। গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন, উপজেলা সভাপতি সোহরাব আলী, সাধারণ সম্পাদক জাফর আলীসহ কয়েকজন তার কক্ষে ঢুকে মারধর করেন এবং অফিসে ভাঙচুর চালান।
এ ঘটনায় নুরনবী বাদী হয়ে মামুন, সোহরাব আলী, জাফর আলী, জিয়াউর রহমান, রাকিব ফেরদৌসসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের ভান্ডারা এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান নামে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
নুরনবী বলেন, মামুন বিভিন্ন সময় আমার কাছে ভাগবাঁটোয়ারা দাবি করতেন। আমি রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিকল্পিতভাবে অফিসে এসে আমার শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং সোহরাব ও জাফর আমাকে মারধর করেন। তারা অফিস কক্ষ তছনছ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর ৮ এপ্রিল ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এবং বাংলাদেশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সমিতি এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। একই দিনে রাণীশংকৈল অফিসার্স ক্লাবও পৃথক প্রতিবাদ বিবৃতি দেয়।
ওসি আমানুল্লাহ আল বারি জানান, মামুনকে দিনাজপুর কোতয়ালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় শুক্রবার রাতে দিনাজপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই