দক্ষিণ এশিয়ায় ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপনের সময় এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে। উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি না করে, অনেকেই ইরানের যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
বুদগামের ৫৫ বছর বয়সী মাসরত মুখতার নিজের জন্মদিনে পাওয়া সোনার কানের দুল ত্রাণ সংগ্রহে দান করেন। তার এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে আত্মীয়স্বজনরাও নিজেদের মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে আসেন।
শুধু একটি পরিবার নয়, কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ নগদ অর্থ, গৃহস্থালির সামগ্রী ও ব্যক্তিগত সম্পদ দান করেছেন। অনেকে তাদের দৈনন্দিন উৎসবের আয়োজন কমিয়ে সেই অর্থ ত্রাণে দিয়েছেন। প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার দূরের ইরানের মানুষের প্রতি সহমর্মিতা থেকেই এই উদ্যোগ।
মাসরত মুখতার বলেন, আমরা যা ভালোবাসি, সেটাই দিই। এতে আমরা তাদের আরও কাছের মানুষ মনে করি।
তিনি কাশ্মীরের একটি ঐতিহাসিক নামের কথাও উল্লেখ করে বলেন, এটাই ‘লিটল ইরান’, আর এই সম্পর্ক সময় ও সংঘাত পেরিয়েও টিকে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশ্মীর ও ইরানের মধ্যে ছয় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই বন্ধনই বর্তমান যুদ্ধের সময় আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
তবে এই তহবিল সংগ্রহ নিয়ে কিছু উদ্বেগও প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের আশঙ্কা, সব সংগ্রহ কার্যক্রম যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত না হলে অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকতে পারে।
তবুও আয়োজকদের দাবি, এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ মানবিক এবং এর একমাত্র লক্ষ্য হলো যুদ্ধের মধ্যে থাকা ইরানের সাধারণ মানুষকে সহায়তা করা।
/ইউএমএইচ