জাহাজ জব্দকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী থেকে দুটি জাহাজ জব্দের দাবি করেছে। খবর আলজাজিরা ও বিবিসির।
আইআরজিসি নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ইরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ (চরম সীমা)। এই অভিযোগে দুটি জাহাজ জব্দ করে সেগুলো ইরানের উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ‘এমএসসি ফ্রান্সেস্কা’ ও ‘এপামিনোনডাস’ নামের দুটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ইরানের উপকূলের কাছে একটি জাহাজে গুলি চালানো হয় এবং ওমানের উপকূলের কাছে আরেকটি জাহাজ হামলার শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ‘ইউফোরিয়া’ নামের একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যা পরে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ইরানি উপকূলের কাছে আটকা পড়ে।
তেহরান থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ আইআরজিসির আগের অবস্থানের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা আগে থেকেই বলে আসছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ, নৌযান বা তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করলে তা আইআরজিসির অনুমতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে হতে হবে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী’ জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলের অংশ বলেও মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া, ইরান এখন হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য চার্জ বা ট্রানজিট ফি আরোপের কথাও বলছে এবং জোর দিয়ে জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের যাতায়াত তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই করতে হবে।
এর আগে রোববার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে যাওয়ার সময় দেশটির পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। ওই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত শান্তি আলোচনায় না বসার সিদ্ধান্তের কথাও জানায়।
/ইউএমএইচ