পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে চলমান বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনায়। প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতা বলছে, প্রায় দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, আর সরকার গঠনের পথে অনেকটাই এগিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি।
সোমবার (৪ মে) বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২৯৪ আসনের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি প্রার্থীরা। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে পিছিয়ে পড়েছে, যদিও কিছু এলাকায় তারা লড়াই ধরে রেখেছে।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একই চিত্র-গ্রাম থেকে শহর, উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল- বিজেপির শক্তিশালী উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামসহ জঙ্গলমহলের একাধিক আসনে গেরুয়া শিবিরের এগিয়ে থাকা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে।
আরও পড়ুন
তবে লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে- এমনটা মানতে নারাজ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। নিজের কেন্দ্রেও তিনি এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান কমার ইঙ্গিত মিলছে। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
অন্যদিকে বিজেপি শিবিরে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। একাধিক কেন্দ্রে তাদের প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বিরোধী শিবিরের দাবি, এই ফলাফল রাজ্যে ‘পরিবর্তনের জনমত’-এর প্রতিফলন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ঘিরে কিছু জায়গায় উত্তেজনা ও অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। একটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে প্রশাসনিক দিক থেকেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। কলকাতা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
সব মিলিয়ে, ভোটগণনার চূড়ান্ত ফল এখনও বাকি থাকলেও প্রবণতা বলছে- পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। এখন সবার নজর শেষ ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে রাজ্যের আগামী দিনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।
এএডি/