ভারতের উত্তর প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত, ঝড় এবং বজ্রপাতের কারণে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) রাজ্যের পাঁচটি জেলায় এই ঘটনা ঘটে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ভাদোহি জেলায়, যেখানে ১৬ জন মারা গেছেন। এছাড়া ফতেহপুরে ৯ জন, বদাউন জেলায় ৫ জন, চন্দাউলিতে ২ জন এবং সোনভদ্র জেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঝড়ের সময় প্রবল বাতাসে গাছ উপড়ে, বাড়ির দেয়াল ধসে পড়ে এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটেছে। অনেক এলাকায় মানুষ ঝড় থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিলেও সেখানে দুর্ঘটনার শিকার হন।
ভাদোহি জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, একাধিক এলাকা থেকে গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ফলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হয়।
এদিকে, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জেলা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলায় উদ্ধার কাজ চলছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। কৃষি ও রাজস্ব বিভাগসহ অন্যান্য দপ্তর মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে, যাতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
ভাদোহিতে সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পুলিশের পোস্ট অনুযায়ী, ধূলিঝড়ের কারণে পৃথক পৃথক ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর।
ফতেহপুরে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অবিনাশ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, খাগা তহসিলে ৮ জন (এর মধ্যে ৫ জন নারী) এবং সদর তহসিলে ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে ১ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, মোট ৯ জনের মৃত্যু এবং ১৬ জনের আহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুদাউনে তীব্র ধূলিঝড় ও বৃষ্টির কারণে পৃথক ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ছিল, এবং সমসংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন।
বিসৌলি থানার অন্তর্গত সিদ্ধপুর কাইথলি গ্রামে ঝড়ের সময় একটি কাঁচা ঘরের মাটির দেয়াল ধসে পড়ে দুই মেয়ে—মৌসুমি (১০) ও রজনী (৯)—মৃত্যুবরণ করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঝড় শুরু হলে তারা দুই নারীসহ (কল্লো ও নেহা) একটি কুঁড়েঘরে আশ্রয় নিয়েছিল। ধসে পড়া দেয়ালের নিচে চারজনই আটকে পড়েন; ঘটনাস্থলেই দুই শিশুর মৃত্যু হয়, আর দুই নারী গুরুতর আহত হন।
আরেকটি ঘটনায়, ফৈজগঞ্জ বেহতা থানার অন্তর্গত তারক পারোলি গ্রামে লক্ষ্মী (৪০) নামের এক নারী ঝড় থেকে বাঁচতে টিউবওয়েল ঘরে আশ্রয় নিলে গাছ পড়ে সেই ঘরের ছাদ ধসে পড়ে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন, যাদের মধ্যে গীতা নামের এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিসৌলি এলাকার বিলসি রোডের কাছে পৃথক একটি দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক যোগেশ (৩২) ইউক্যালিপটাস গাছ উপড়ে তার গাড়ির ওপর পড়ে গেলে মারা যান। বিসৌলির সাহুকারা এলাকার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী আনশুল শর্মা তার বাবার কাছে খাবার পৌঁছে দিতে যাওয়ার সময় ঝড়ের মধ্যে গাছ ভেঙে তার ওপর পড়লে তিনি প্রাণ হারান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) হৃদেশ কুমার কাটারিয়া জানিয়েছেন, বিসৌলি ও ফৈজগঞ্জ বেহতা থানা এলাকায় ঝড়ের কারণে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া সোনভদ্রের পুন্নুগঞ্জ থানা এলাকায় মাধব সিং (৩৮) নামের এক ব্যক্তি গাছের নিচে আশ্রয় নিতে গেলে তার ওপর গাছ পড়ে মৃত্যু হয়।
চাঁদৌলির চাকিয়া থানা এলাকায় পৃথক ঘটনায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মুন্নি (৫৫) দেয়াল ধসে পড়ে মারা যান এবং প্রভাবতী (৬৫) গাছ পড়ে আহত হয়ে পরে মারা যান।
ভারী বৃষ্টিপাত, প্রবল বাতাস ও বজ্রপাতের কারণে প্রাণহানি, গবাদি পশু ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি জেলা প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে ত্রাণ ও সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বীমা সংস্থা, রাজস্ব বিভাগ ও কৃষি বিভাগকে ক্ষয়ক্ষতির জরিপ করে সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন।
সূত্র : এনডিটিভি
/ইউএমএইচ