সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দিয়ে সেখানে ধান সংরক্ষণ করছেন ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি। এতে সহযোগিতা করতে বাধ্য হচ্ছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
শনিবার (১৬ মে) ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের খামার হলোখানা মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
জানা গেছে, অন্যদিনের মতো বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণিকক্ষে এসে দেখেন মেঝেতে ধান ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। এ অবস্থাতেই তারা পাঠগ্রহণ শুরু করে। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শামছুল হক ও তার লোকজন এসে শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেন। শিক্ষার্থীরা এ সময় প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি অবহিত করলেও তিনি আমলে নেননি। তখন শিক্ষার্থীরা বাইরে এসে এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানায়। এলাকাবাসীর অনেকে তাদের কথোপকথন ভিডিও করার এক পর্যায়ে সাবেক সভাপতি তাদের বাধা প্রদান করেন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান।
এলাকার শাহ্ আলম, সবুজ মিয়া, শামীম আহমেদসহ অনেকেই জানান, শামছুল হক প্রভাবশালী হওয়ায় বিদ্যালয়টিতে মাঝেমধ্যেই বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন। পুরো মৌসুম জুড়ে বিদ্যালয়টির মাঠে ধান মাড়াই থেকে শুরু করে ধান-খড় শুকানো ও শ্রেণিকক্ষে ধান সংরক্ষণ করেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রসুল বলেন, ‘শামছুল হক গত বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে শ্রেণিকক্ষে ধান রাখার বিষয়টি অবগত করেন। সে কারণে তাকে ধান রাখতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শনিবার ক্লাস শুরুর আগেই ধান সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে শিশুদের বের করে দেওয়ার বিষয়টি জানি না।’
শামছুল হক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও সাবেক সভাপতি হিসেবে শিক্ষকের অনুমতি সাপেক্ষে ধান রেখেছি।’
সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কারণ দর্শাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
/মহু