কিউবাকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা, সামরিক পদক্ষেপের ‘অজুহাত’ তৈরির অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য ভুয়া অভিযোগ তৈরির’ অভিযোগ তুলেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে এই

2026-05-18T22:24:11+00:00
2026-05-18T22:24:11+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কিউবাকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা, সামরিক পদক্ষেপের ‘অজুহাত’ তৈরির অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম 
মার্কিন তেল অবরোধ কার্যকর হওয়ায় আরও তীব্র হয়ে ওঠা জ্বালানি সংকটের কারণে ধারাবাহিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। ছবি : বিবিসি
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য ভুয়া অভিযোগ তৈরির’ অভিযোগ তুলেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে এই দাবি করার পর তিনি প্রতিক্রিয়া জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবা এখন এমন ড্রোন সংগ্রহ করেছে, যা প্রয়োজনে ফ্লোরিডা পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।

ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, হাভানা ‘যুদ্ধ চায় না এবং কাউকে হুমকিও দিচ্ছে না’। তবে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে, যাতে ভবিষ্যতে কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া যায়।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, কিউবার কাছে বর্তমানে প্রায় ৩০০টি ড্রোন রয়েছে এবং দেশটি ফ্লোরিডা উপকূল, গুয়ান্তানামো বে এবং মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ইরানি সামরিক উপদেষ্টারাও বর্তমানে হাভানায় অবস্থান করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানি ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এখন বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন ধরনের কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করছে। সেই প্রেক্ষাপটে কিউবা–ইরান যোগাযোগ নিয়েও ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়ছে।        

এদিকে জ্বালানি সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের কার্যত তেল অবরোধের কারণে কিউবায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে মারাত্মক অবনতি হয়েছে। দেশজুড়ে নিয়মিত লোডশেডিং চলছে, যার প্রভাব হাসপাতাল, পানি সরবরাহ, গণপরিবহন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও পড়েছে। খাদ্য ও ওষুধ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।  

কিউবা এতদিন ভেনেজুয়েলার সহায়তায় কিছুটা টিকে ছিল। ধারণা করা হয়, নিকোলাস মাদুরোর সরকার প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাত। তবে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর সেই জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধাক্কা লাগে। 


অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন কিউবার ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন নজরদারি বিমান কিউবার আশপাশে ফ্লাইট বাড়িয়েছে এবং অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতির খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ সম্প্রতি হাভানা সফরে গিয়ে বলেন, কিউবা যেন ‘পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ না হয়।

একই সময়ে খবর বেরিয়েছে, কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পরিকল্পনাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।

ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার পর কিউবাও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে। তিনি ‘মনরো ডকট্রিন’-এর নতুন সংস্করণ হিসেবে নিজের নীতিকে ‘ডনরো ডকট্রিন’ বলেও উল্লেখ করেছেন, যেখানে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুরো পরিস্থিতি এখনো সরাসরি যুদ্ধের পর্যায়ে না গেলেও কিউবাকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে এবং এটি লাতিন আমেরিকায় নতুন ভূরাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   কিউবা  ব্রুনো রদ্রিগেজ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: