দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রশস্তকরণ কাজ চলছে পুরোদমে। প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশে চলছে খননকাজ। প্রতিদিন খননকৃত শত শত ট্রাক মাটি বিক্রি করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা, এই মাটি বিক্রির বিপুল পরিমাণ অর্থ কার পকেটে যাচ্ছে?
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মহাসড়ক উন্নয়নের আড়ালে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী মাটি বাণিজ্য সিন্ডিকেট। প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও ঠিকাদারি চক্র সরকারি সম্পদকে ব্যক্তিগত লাভের উৎসে পরিণত করেছে। প্রতি ট্রাক মাটি ৬৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে তারা জানান। মাটি বিক্রির লাখ লাখ টাকা কারা নিচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে- এসব প্রশ্নের জবাব নেই কারও কাছে। স্থানীয় কয়েকজন কথিত সাংবাদিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও এতে জড়িত রয়েছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি বহন করলেও নেই কোনো প্রকাশ্য তালিকা, পরিবহণ নিয়ন্ত্রণ, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশগত নিয়মও মানা হচ্ছে না। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে যদি সরকারি সম্পদ লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের প্রতিটি সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব জনগণ জানতে চায়। তাই খননকৃত মাটির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, কোথায় কত মাটি যাচ্ছে- তা জনসম্মুখে আনা ও অবৈধ মাটি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহল। এ ছাড়া খননের পর পাওয়া পুরাতন মালামালের সঙ্গে নতুন কিছু মালামাল মিশিয়ে পুনরায় সড়কে ব্যবহার করার অভিযোগও করেছেন তারা।
সড়ক ও জনপথ সূত্রে (সওজ) জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া অংশে প্রশস্তকরণ কাজ ৩ প্যাকেজে চলছে। এরমধ্যে প্যাকেজ-১ সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত ৮.৪ কিলোমিটার। উক্ত প্যাকেজের কাজ পান এম এ এইচ কনস্ট্রাকশন, যার বরাদ্দ ৩৫ কোটি টাকা। প্যাকেজ- ২ লোহাগাড়ার রাজঘাটা থেকে চুনতির মিঠার দোকান এলাকা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার। উক্ত প্যাকেজের কাজ পান এম এ কনস্ট্রাকশন, যার বরাদ্দ ৩৪ কোটি টাকা। প্যাকেজ- ৩ চুনতির মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া এলাকা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার। উক্ত প্যাকেজের কাজ পান এম এ এইচ কনস্ট্রাকশন, যার বরাদ্দ ৩০ কোটি টাকা। প্রতিটি প্যাকেজে মহাসড়কের উভয় পাশে ৬ ফুট করে প্রশস্ত ও ৩ ফুট গভীর করে মাটি খনন করা হবে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাপ্রবণ জাঙ্গালিয়া এলাকায় ৯শ মিটার সড়ক মাঝখানে ডিভাইডারসহ চারলেনে উন্নীত হবে। অপরদিকে, চন্দনাইশ স্টেশন, লোহাগাড়া উপজেলা সদর বটতলী স্টেশন ও পদুয়া স্টেশনে মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উভয় পাশে ড্রেনের কাজ করছে মাসুদ হাইটেক নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। উক্ত কাজের বরাদ্দ ১০ কোটি টাকা।
উপজেলার চুনতি এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে খননকৃত অনেক অংশ ইতোমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। কিছু অংশে খননের মাটি সড়কের সাইড সোল্ডারে রাখা হয়েছে। তবে সেখানে রাখা মাটিগুলো, খনন করে পাওয়া মাটির সিংহভাগের একাংশ বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে অবশিষ্ট মাটি কোথায় গেছে কেউ কিছুই জানেন না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নুর ইসলাম জানান, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে খননকৃত মাটি সাইড সোল্ডারে দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত মাটি বিক্রির বিষয়টি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সজিব জানান, কিছু মাটি সড়কের সাইড সোল্ডারে দেওয়া হয়েছে। আর কিছু মাটি স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির পিএস নিয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, খননের মাটি বিক্রি বা কেউ নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এমন কিছু হয়ে থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
/মহু