মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের সকালের নাস্তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও পচা ডিম। অস্বাস্থ্যকর এ খাবার খেয়ে অন্তত দুইজন রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (৩১ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে ওয়ার্ডের রোগীদের নাস্তা হিসেবে পাউরুটি ও সিদ্ধ ডিম সরবরাহ করা হয়। কিন্তু খাবারের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরবরাহকৃত পাউরুটির প্যাকেটে থাকা মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ১ দিন আগেই শেষ হয়েছে। এছাড়া সিদ্ধ ডিমগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় অধিকাংশ রোগীই এ নাস্তা গ্রহণ করতে পারেননি।
ভুক্তভোগী রোগী ইব্রাহিম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রুটিতে ছত্রাক পড়ে গেছে আর ডিম থেকে পচা গন্ধ আসছিল। এ খাবার কোনোভাবেই খাওয়ার উপযোগী নয়। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হয়েছে। হাসপাতালের খাবার খেলে মানুষ সুস্থ হওয়ার বদলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’
মানসুরা বেগম নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সাত বছর বয়সী ছেলে হাসপাতালে ভর্তি। সকালের নাস্তায় যে রুটি দেওয়া হয়েছে তার মেয়াদ গতকালই শেষ হয়েছে। ডিম থেকে ভুরভুরে পচা গন্ধ আসছিল। এ খাবার খেয়ে অন্তত একজন নারী রোগী বমি ও অসুস্থতা অনুভব করেছেন। কিছুক্ষণ আগে তিনি বাড়িতে চলে গেলেন।’
হাসপাতালে ভর্তি ডায়াবেটিস রোগী হাসিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা কি মানুষ না? গরু-ছাগলকেও কেউ এমন পচা খাবার দেয় না। চরম অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।’
খবর নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে নাস্তা সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে কিন্তু কর্তৃপক্ষ বরাবরই নির্বিকার।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খন্দকার আরশাদ কবির বলেন, ‘একজন রোগী রুটি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি যদি সত্য হয় তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক।’
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত জাহান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। এটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মিললে সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদা মুস্তফা বলেন, ‘বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে প্রথম জানলাম। আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
/কেএইচও