চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মাদরাসার ছাত্রকে (১১) একাধিকবার বলাৎকারের অভিযোগে মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আল-আমিনকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিশুটি উপজেলার মারকাজুল নুর আল ইসলামীয়া মাদরাসার নাজেরা বিভাগের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। আল-আমিন সন্দ্বীপ থানার মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খণ্ডিল্লার গো বাড়ির মো. ছানাউল্লাহর ছেলে। তিনি ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাদরাসা ১২ দিন বন্ধ থাকার পর গত ৬ জুন খোলার দিনে ভুক্তভোগী ছাত্রটিকে যাওয়ার জন্য বলেন তার মা। কিন্তু শিশুটি মাদরাসায় যেতে তীব্র অনীহা প্রকাশ করে। একপর্যায়ে মায়ের চাপের মুখে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলাৎকারের কথা প্রকাশ করে।
শিশুটির মা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান এবং পরবর্তীতে সন্দ্বীপ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
মামলার পর শিশুটি পুলিশকে জানায়, গত ৮ মে আসর নামাজের পর বিকালে প্রধান শিক্ষক আল-আমিন তাকে মাদরাসার অফিস কক্ষ সংলগ্ন নিজের শয়ন কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তাকে মেঝেতে ফেলে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন।
শিশুটি আরও জানায়, এর আগেও বিভিন্ন সময় ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে তাকে একাধিকবার বলাৎকার করেছেন। লোকলজ্জা এবং শিক্ষকের ভয়ের বিষয়টি সবার কাছে গোপন রেখেছিল।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার (৬ জুন) সন্দ্বীপ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/২০২৫) এর ৯ (১) ধারায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়।
সন্দ্বীপ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার জানান, মামলার পর পরই পুলিশ তৎপরতা শুরু করে এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আল-আমিনকে গ্রেফতার করে। ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) প্রক্রিয়া চলছে। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
সময়ের আলো/জোই