বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ টকশোতে চিকিৎসকদের পেশা ও মর্যাদা জড়িয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর, উসকানিমূলক এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে সাংবাদিক মাসুদ কামালের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চিকিৎসক সংগঠনগুলো।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা (যা বর্তমানে তদন্তাধীন) নিয়ে আলোচনাকালে চিকিৎসকদের প্রতি তার মন্তব্যকে ‘অশালীন, অবমাননাকর ও অনভিপ্রেত’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। একই সাথে তাকে তার অবমাননাকর উক্তি প্রত্যাহার করে দেশের সমগ্র চিকিৎসক সমাজের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ), ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স (এনএইচএ) এবং বিসিএস হেলথ ফোরামের পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে এই তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনাটির তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। অথচ আলোচনার এক পর্যায়ে মূল প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে মাসুদ কামাল দেশের চিকিৎসকদের ‘চামার’ বলে সম্বোধন করেন। পুরো একটি পেশাজীবী সম্প্রদায়কে এমন আপত্তিকর শব্দে সংজ্ঞায়িত করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
ড্যাব নেতারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তারা আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে গঠনমূলক সমালোচনা স্বাগত, কিন্তু কোনো পেশাকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হলে তা চিকিৎসাসেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দেবে।
এদিকে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) তাদের বিবৃতিতে জানায়, গণতান্ত্রিক দেশে বাকস্বাধীনতা সবারই আছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে স্বাধীনতার নামে কোনো পেশাজীবী সমাজকে ঢালাওভাবে আক্রমণ ও হেয় করা যাবে। এটি সুস্থ সাংবাদিকতার আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
সংগঠনটি বলে, দেশের চিকিৎসকেরা সীমিত সম্পদ এবং অতিরিক্ত কর্মচাপের মতো নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কোটি কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন। করোনা মহামারি থেকে শুরু করে যে-কোনো জাতীয় দুর্যোগে চিকিৎসকেরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমন একটি সংবেদনশীল পেশাকে অপমান করলে তা চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ককে নষ্ট করবে।
ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স (এনএইচএ) তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, যে-কোনো পেশার ভুলত্রুটি নিয়ে সমালোচনা হতে পারে, তবে তা অবশ্যই তথ্যভিত্তিক, যুক্তিনির্ভর এবং শালীন হওয়া উচিত। সমালোচনার নামে কাদা ছোড়াছুড়ি ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা বাকস্বাধীনতা নয়, বরং তা সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষ তৈরি করে। তারা মাসুদ কামালকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।
বিসিএস হেলথ ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, নানা প্রতিকূলতা, সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের চিকিৎসকেরা দিনরাত মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি কিংবা যেকোনো জাতীয় সংকটে তারা নিজেদের ও পরিবারের কথা না ভেবে দায়িত্ব পালন করেন। একটি পুরো গোষ্ঠী সম্পর্কে এমন বিদ্বেষমূলক মন্তব্য কেবল চিকিৎসকদেরই নয়, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করার শামিল। তাই ওই বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সময়ের আলো/জেডি