পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্বরাঘবপুর গ্রামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিশোরী রিয়া খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যার পর, গত ৪ জুন অভিযুক্ত প্রেমিক নাঈমের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন একই গ্রামের আরও ৩ যুবক।
নিহতদের পরিবারের দাবি, প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, রিয়ার পরিবারের সন্দেহ, মূল হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে নিতেই তৃতীয় কোনো পক্ষ এই অগ্নিসংযোগ করিয়েছে।
এ ঘটনায় দগ্ধ হন একই গ্রামের ৫ জন। গত দুদিনে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে মারা যান সুমন শেখ, সাব্বির ও সাবু নামের ৩ যুবক। মঙ্গলবার বিকেলে সুমনের মরদেহ দাফন করা হলেও, বাকি দুজনের মরদেহ ঢাকা থেকে আসে মঙ্গলবার মধ্যরাতে। বুধবার সকালে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহতদের পরিবারের দাবি, তারা কোনো সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তারা ছিলেন নিহত রিয়ার সহপাঠী। তবে তারা কেউ বর্তমানে শিক্ষার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পেশায় সকলেই দিনমজুরের কাজ করতেন। এসেছিলেন রিয়ার দাফনে অংশ নিতে। পরে আগুন নেভাতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন।
অগ্নিদগ্ধের ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একের পর এক মৃত্যু ও মামলায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ গ্রামবাসী। তারা মনে করেন, প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগে এই কাজ করতে সাহস পাচ্ছে দুর্বৃত্তকারীরা।
তবে আইনশৃঙ্খলায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান। তিনি বলেন, ‘কারা কী কারণে আগুন দিয়েছে, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আশা করছি, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল না। গ্রামের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্যধারণ করতে হবে।’
এই ধরনের সহিংসতা ও প্রতিহিংসামূলক ঘটনা যাতে আর না হয়, তার জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চান স্থানীয়রা।
/মহু