বেরিয়ে আসছে সান্তাহারে আলোচিত শিশু রাকিকা আক্তার রাকা হত্যাকাণ্ডের আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। সোনার দুল হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশীর সাথে বিরোধও এই হত্যাকাণ্ডের আরো একটি কারণ। ইতোমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে মামলার ২ নম্বর আসামি বন্যা বেগম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) বগুড়ায় আদমদীঘি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারকের কাছে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন। পরে বিচারক তার দেয়া জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত শিশু রাকার পরিবারের সাথে আগে থেকেই নানা বিষয় নিয়ে বন্যা বেগম ও বাদী পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। তারপরও সাড়ে ৬ বছর বয়সী রাকা আসামি বন্যা বেগমের বাড়িতে যেত ও তার মেয়ে ফাতেমার (১২) সাথে খেলাধুলা করতো। খেলাধুলার এক পর্যায়ে রাকাকে কয়েকদিন আগে মারধর করে ফাতেমা।
মার খেয়ে রাকা বাসায় গিয়ে তার দাদীকে বিষয়টি বললে তিনি ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তার দাদী ফাতেমাকে মারধোর করেন। কিন্তু বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি ফাতেমার মা বন্যা বেগম ও তার পরিবার। তারা পাল্টা প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করেন। এরমধ্যে গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশু রাকামনিকে ডেকে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে বন্যা বেগম ও তার পরিবার, বলেও জানান ওসি কামরুজ্জামান।
আসামি বন্যা বেগম স্বীকার করে যে, সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়ায় তার বাড়িতে ব্রয়লার মুরগীর একটি ছোট শেড রয়েছে। সেখানে রাকা যখন মুরগী দেখছিল তখন পিছন থেকে কাপড়ের রশি দিয়ে রাকার গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়।
বন্যা বেগম দাবি করেন, তিনি নিজেই রাকাকে হত্যা করেছেন। পরে তার লাশ একটি প্লাস্টিক বস্তায় ভরে। এরপর কাগজপত্র দিয়ে ঢেকে শয়ন কক্ষের পাশে লুকিয়ে রাখা হয়।
ওসি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারনামীয় ৪ আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে বন্যা বেগমের স্বামী আমজাদ হোসেনও রয়েছে। নিহত রাকা সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়ার অটোরিকশা গ্যারেজ মিস্ত্রী রায়হান আলীর মেয়ে। তিনি আরো বলেন, রাকার সোনার দুটি কানের দুলও খুলে নেয়া হয়।
এ বিষয়েও জোরালো তদন্ত চলছে। এ হত্যার ঘটনায় আদমদীঘি থানায় নিহত রাকার বাবা সান্তাহার সাহেব পাড়ার রায়হান আলী বাদী হয়ে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা বেগম এবং বাবু হোসেনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম ও বাবু হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে গ্রেপ্তার করেছে।
সময়ের আলো/আতা