খুলনায় মসজিদে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যা, নেপথ্যে কারা?

খুলনা ব্যুরো

সারাদেশ

খুলনা দৌলতপুরের কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লি লোকমান হাকিম ও আলমকে গুলির ঘটনায় নেপথ্যে কারা পরিচয় এখনও নিশ্চিত

2026-06-17T19:35:54+00:00
2026-06-17T19:37:38+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
সারাদেশ
খুলনায় মসজিদে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যা, নেপথ্যে কারা?
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম  আপডেট: ১৭.০৬.২০২৬ ৭:৩৭ পিএম  (ভিজিট : ৪২)
ছবি : সময়ের আলো
খুলনা দৌলতপুরের কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লি লোকমান হাকিম ও আলমকে গুলির ঘটনায় নেপথ্যে কারা পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, ওজোপাডিকোর (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি) বিদ্যুৎ ও চোরাই তেলের অবৈধ সিন্ডিকেট সংক্রান্ত বিরোধ বা পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।

রোববার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে হেলমেট পরিহিত দুই দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতরে ঢুকে সরাসরি লোকমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৮) ও ব্যবসায়ী আলম শেখ (৫৫)। আহতদের মধ্যে লোকমান হাকিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। আর আলম শেখ খুলনায় চিকিৎসা নেন পরে তাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকেও ঢাকায় পাঠানো হয়।

ঘটনায় একাধিক দিক সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। ঘটনার পর বুধবার (১৭ জুন) পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং কেউ আটকও হয়নি।

পুলিশ ও একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় চোরাই তেল কারবার-সংক্রান্ত কোনো বিরোধ বা চরমপন্থী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আছে কি না, তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।


তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিমের সঙ্গে কোনো চরমপন্থী গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্তকারীরা তথ্য যাচাই করছেন। হামলার পেছনে এসব বিষয় থেকে সৃষ্ট কোনো বিরোধের যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরে বসে ছিলেন লোকমান হাকিম। একই সময়ে মসজিদের বারান্দায় বসে জিকির করছিলেন আলম শেখ। এ সময় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা আকস্মিকভাবে মসজিদে ঢুকে লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিতে আলম শেখও আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় দুজন মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লোকমান হাকিম মুঠোফোনে স্বজনদের বিষয়টি জানান বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রোববার ভোর ৫টা ২৭ মিনিটের দিকে মসজিদের সামনে দিয়ে লাল রঙের একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তিকে যেতে দেখা যায়। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মসজিদের ইমাম আমানত উল্লাহ বলেন, ফজরের নামাজের পর কিছু সময় লোকমান হাকিম আমার সঙ্গে কোরআন শরিফ পড়েন। এরপর আমি বাসায় চলে যাই। তখনো তিনি কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন এবং আলম শেখ বারান্দায় বসে জিকির করছিলেন। আধা ঘণ্টা পর গোলাগুলির খবর পাই। 

তিনি আরও বলেন, ২৬ বছর ধরে আমি এই মসজিদে খেদমত করছি। এই সময়জুড়েই লোকমান হাকিমকে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করতে দেখেছি। তিনি পরোপকারী মানুষ।


মসজিদের এক নিয়মিত মুসল্লি বলেন, লোকমান সাহেব প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এই মসজিদেই আদায় করতেন। এশা ও ফজরের নামাজের পর প্রায় এক ঘণ্টা করে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। মসজিদের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটবে, তা আমরা কখনো ভাবিনি। আমরা আতঙ্কিত ও মর্মাহত। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচার চাই।

খুলনায় মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলির নেপথ্যে কারা, এই খুনের রহস্য কি, মামলা হয়েছে কিনা— সময়ের আলো পত্রিকার খুলনা ব্যুরো প্রধান এ প্রশ্ন উত্তরে দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) মুরাদুল ইসলাম বলেন, বাদী পক্ষ এখন পর্যন্ত মামলা করেননি। যদি তারা মামলা না করেন তাহলে পুলিশ বাদী মামলা হবে। তাদের পারিবারিক পূর্ব শত্রুতা, ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও চোরাই তেল কারবার-সংক্রান্ত কোনো বিরোধ বা চরমপন্থী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা সম্ভব না। তদন্ত অব্যাহত আছে।

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, ঘটনার তদন্তে কয়েকটি টিম কাজ করছে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি কিছু ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব হবে।

সুদর্শন কুমার আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম তেলের ডিপোর একটি কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। একই সঙ্গে তিনি ওজোপাডিকোর ঠিকাদারও ছিলেন। ব্যবসায়িক কিংবা পারিবারিক কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তিনি একজন ব্যবসায়ী।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   খুলনা  মসজিদ  মুসল্লি  গুলি  হত্যা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: