চার দশক পেরিয়েও চালু হয়নি ঢাকার ধামরাইয়ে প্রায় ১৬ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্প। ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণাধীন ইউনুস খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরো প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ২০১৭ সালের পর থেকে।
স্থানীয়দের ভাষায়, একসময় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া হাসপাতাল প্রকল্পটি এখন পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। ভবনের ভেতর-বাইরে ঝোপঝাড় জন্মেছে, আর এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি মাদকসেবী ও বিষধর সাপের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধামরাই উপজেলার ওয়ার্শী ও পাইকপাড়া গ্রামের সীমানাজুড়ে নির্মিত হাসপাতাল কমপ্লেক্সের বেশিরভাগ অবকাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও তা ব্যবহারের কোনো লক্ষণ নেই। চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ভবন, একটি মসজিদ এবং পুকুরসহ বিস্তৃত স্থাপনাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে আছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালে শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইকবালের উদ্যোগে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তার বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর দেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য থেকেই একটি ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কয়েক দশক ধরে ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ এগোলেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা জটিলতায় প্রায় ২০ বছর আগে কাজ থেমে যায়।
প্রকল্পটি বর্তমানে দেখভাল করছে ইকবাল আহমেদ ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, খান মোহাম্মদ ইকবালের বাবা ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাকে চিকিৎসা করতে বিভিন্ন দেশে নিতে হয়েছে। তাই অসুস্থ অবস্থায় ছেলেদের বলেন, একটি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের কথা। যাতে বাংলাদেশের মানুষ চিকিৎসাসেবা পায়। প্রয়াত বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই পিতা ইউনুস খানের নামেই হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করেন খান মোহাম্মদ ইকবাল।
তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে প্রধান উদ্যোক্তা শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইকবালের মৃত্যুর পর পুরো প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। সরকার বা কোনো ব্যক্তি যদি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসে তাহলে মালিকপক্ষ রাজি আছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, হাসপাতালটি চালু করা গেলে ধামরাই ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ উপকৃত হবেন। কলেজ শিক্ষার্থী অনীক বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে শুধু ধামরাই না, আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ উপকার ভোগ করতে পারবে। বর্তমানে এখানে বন-জঙ্গল হয়ে আছে, যা আমাদের কোনো কাজে লাগছে না।
মেডিকেল শিক্ষার্থী রহিমা মীম বলেন, ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ হাসপাতালটি সম্পূর্ণ হলে ঢাকা, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর, চার জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এখন তো এখানে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে তা কোনো কাজেই আসছে না।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, চৌহাট ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পটি একজন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে শুরু করেছিলেন। উদ্যোক্তার মৃত্যুর পর থেমে যায় সবকিছু। এই প্রকল্প নিয়ে আমরা ডিসি অফিস ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানিয়েছি। যাতে এই হাসপাতালটি চালু করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।
সময়ের আলো/আতা