দীর্ঘ ১৫ বছর পর পুনরায় চালু হয়েছে মাগুরা-নড়াইল সড়কে সরাসরি বাস চলাচল। এর ফলে দুই জেলার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, পারিবারিক যোগাযোগ এবং সামাজিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে মাগুরা শহরের চাউলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ বাস সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান।
জানা গেছে, মাগুরা জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপ এবং নড়াইল জেলা বাস মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে সরাসরি এ বাস চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।
মাগুরা জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মীর আবু সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসহাক মল্লিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলন, সিনিয়র লাইন সম্পাদক মো. মতিয়ার রহমান, লাইন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মীর মোশারফ হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘মাগুরা ও নড়াইলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল সরাসরি বাস চলাচল চালু করা। আজ সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এ সেবা চালু হওয়ায় দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
শারমিন স্মৃতি নামে এক যাত্রী বলেন, ‘সরাসরি বাস না থাকায় বাবার বাড়ি নড়াইলে যেতে কয়েক দফা যানবাহন পরিবর্তন করতে হতো। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগত। এখন সরাসরি বাস চালু হওয়ায় যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে গেল।’
সোহেল মিয়া নামে এক বাস চালক বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর এ রুটে বাস চলাচল শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। যাত্রী চাহিদা ভালো থাকলে এ রুট আরও জনপ্রিয় হবে বলে আশা করছি।’
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, যাত্রীদের চাহিদা এবং দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যেই সরাসরি বাস চলাচল পুনরায় চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যক বাস চলাচল করবে। ভবিষ্যতে যাত্রী সংখ্যা বাড়লে বাসের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে।
দীর্ঘদিন পর সরাসরি বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় মাগুরা ও নড়াইলের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি দুই জেলার সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সময়ের আলো/এসএকে