কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের খালের ওপর নির্মিত ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় এবং সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় এক যুগ ধরে ভোগান্তিতে ১২ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতার হাট সড়কের সাঁকোর পাড় গ্রামে খালের ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজ নির্মাণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। সে সময় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি উদ্বোধনের এক বছর না যেতেই বন্যার পানির তোড়ে একপাশ ভেঙে দেবে যায়, একইসঙ্গে ভেঙে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক। তখন থেকেই উলিপুর ও কুড়িগ্রাম জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুই পাড়ে বসবাসরত পানাতি পাড়া, কুরার পাড়, বোতরা, দোলান, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, বটতলা, লেনোরসহ ১২ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
অত্র এলাকার বাসিন্দা জয়নুল, শমসের, আহসানসহ অনেকে জানান, সড়কটির যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজ, মাদরাসাগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে যাওয়া স্থানীয় কৃষকরা।
বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাঁকোর পাড় এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ব্রিজটি করার পরপরই বন্যার পানির স্রোতে একপাশ ভেঙে দেবে যায়। এরপর থেকে চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে এবং বিভিন্ন দফতরে ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।’
শিক্ষার্থী মমিনুল, আখতার, সুস্মিতা, জুই আক্তার জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার কারণে স্কুলে যেতে সমস্যা হয়। বর্ষা মৌসুমে পানি হলে নৌকা দিয়ে পার হতে হয়, তখন ভয় লাগে। স্কুলে ঠিকমতো যেতে পারি না। শুকনো মৌসুম এলে অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়, তাতেও কষ্ট হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, ‘ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে বাঁশের সেতু দিয়ে চলাচল করার ব্যবস্থা হয়েছিল, পরে সেটাও ভেঙে গেলে চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। আমরা খুব কষ্টে যাতায়াত করছি।’
এ ব্যাপারে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান জানান, সাঁকোর পাড় এলাকায় ভেঙে পড়া ব্রিজটির জন্য নতুন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুতই কাজ শুরু হবে।
সময়ের আলো/মহু