সংস্কারের তিন মাস পার হতে না হতেই খানাখন্দে পরিণত হয়েছে যশোরের চৌগাছার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের পর বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গেছে, দেখা দিয়েছে ভাঙন ও জলাবদ্ধতা। এ ঘটনায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসির অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির ঘাটতির কারণে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কগুলো অল্প সময়েই নষ্ট হতে শুরু করেছে। তারা এ ঘটনার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্ধ কুমার কুন্ডুসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কের ৬ কিলোমিটার সংস্কারে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া, চৌগাছা-পুড়াপাড়া সড়কের টেঙ্গুরপুর মোড় থেকে খড়িঞ্চা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার ৩ মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গেছে। একটি কালভার্টের সংযোগস্থলেও সৃষ্টি হয়েছে ভাঙন।
পুড়াপাড়া-রামকৃষ্ণপুর সড়ক সংস্কারে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। ওই সড়কের বিভিন্ন স্থানেও পিচ উঠে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি গয়ড়া-মাশিলা সড়ক, কমলাপুর মোড়-মাশিলা সড়ক, চৌগাছা পৌরসভার দামোদর বটতলা থেকে স্বরূপদাহ সড়ক এবং সৈয়দপুর থেকে সাতমাইল সড়ক সংস্কারেও বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টির পানিতে নতুন সংস্কার হওয়া এসব রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের এমন অবস্থা হওয়ায় তারা হতাশ। তাদের দাবি, কাজের গুণগত মান যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চৌগাছা উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডুকে ৭ জুলাই চৌগাছা থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
তবে, দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডু।
তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে বিটুমিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদাররা কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। এরপরও আমরা কাজের মান ভালোভাবে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
এলজিইডির যশোর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুব রহমান বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়টি আমার জানা নেই। সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে অনিয়মের নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে, তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্ট্যান্ড রিজিলের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তাকে যশোর অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
এছাড়া, অতি বর্ষায় ভারী যানবাহন চলাচল করলে নতুন সংস্কার হওয়া সড়ক দেবে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, ‘কাজে অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
সময়ের আলো/মহু