যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাইস্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে হিউম্যানয়েড রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষক-সহকারী চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রকল্পটি শুরুর আগেই শিক্ষক ও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের একাংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
নিউইয়র্কের সেনেকা জাতিগোষ্ঠীর অ্যালেগেনি অঞ্চলে অবস্থিত সালামানকা হাইস্কুলে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আওতায় স্কুলটিতে একটি মানবসদৃশ (হিউম্যানয়েড) রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) একটি শিক্ষক-সহকারী আনা হচ্ছে।
তবে এ উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন শিক্ষকেরা। তাদের অভিযোগ, মানুষের মতো দেখতে রোবট এনে শিক্ষকতা পেশার অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় আদিবাসীদের একাংশের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ তাদের সংস্কৃতির প্রতি চরম উদাসীনতার পরিচয়।
‘স্যালি’ নামের রোবটটির দাম ৫৭ হাজার ৫৯০ মার্কিন ডলার। এটি নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে কাজ করবে। যেসব শিক্ষার্থী ব্যবহারের অনুমতি পাবে, তারা দিনে ২৪ ঘণ্টাই ভার্চ্যুয়ালি রোবটটির সহায়তা নিতে পারবে। প্রকল্প-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে শেখার সুযোগ তৈরি করবে।
টরন্টোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিয়েলবোটিকস রোবটটি তৈরি করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সালামানকা হাইস্কুল পরিচালনাকারী ক্যাটারাগাস কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো হিউম্যানয়েড রোবট ও এআই শিক্ষক-সহকারী ব্যবহার করতে যাচ্ছে। পাইলট প্রকল্পে রিয়েলবোটিকসের এম-সিরিজের একটি হিউম্যানয়েড রোবট থাকবে, যা স্বাভাবিক কথোপকথন, মুখের অভিব্যক্তি এবং তাৎক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেবে।
সালামানকা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ওই হাইস্কুলের শিক্ষক লেসি পিহলব্লাড বলেন, ‘রিয়েলবোটিকস যে সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, তার নিরাপত্তা নিয়ে আমরা বেশ চিন্তিত। শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে কি না, কীভাবে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং রোবটটির রেকর্ডিং ক্ষমতা কেমন সেসব বিষয়েও আমাদের শঙ্কা রয়েছে। আমরা চাই স্কুল ডিস্ট্রিক্ট আপাতত রোবটটির ব্যবহার স্থগিত রাখুক। এই এআই প্রযুক্তির সফটওয়্যারের ব্যবহারও বন্ধ রাখা উচিত। এ বিষয়ে আরও মানুষের মতামত নেওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
তিনি আরও জানান, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা থেকে সরে আসার আলোচনা চলছে। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ব্যবহার কমানো উচিত এমন মত এখন জোরালো হচ্ছে। আমি মনে করি, শ্রেণিকক্ষে শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি হিউম্যানয়েড রোবট বসানোটা চরম ভুল সিদ্ধান্ত। আমাদের অধিকাংশ শিক্ষকেরও একই মত।
সালামানকা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের মূল সংগঠন ‘নিউইয়র্ক স্টেট ইউনাইটেড টিচার্স’-এর সভাপতি মেলিন্ডা পারসন গার্ডিয়ানকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে একটি প্রাণহীন যন্ত্র দাঁড় করিয়ে দেওয়াটা মোটেও ভালো কোনো বুদ্ধি নয়। অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা কেবল মানুষের সঙ্গে মিশতে, বন্ধুদের সঙ্গে থাকতে এবং দ্বন্দ্ব মেটাতে শিখছে। এমন সময়ে মানুষের সম্পর্কের অনুকরণ করতে পারে এমন একটি যন্ত্রকে তাদের সামনে আনা হচ্ছে। মানুষের মতো দেখতে একটি রোবটকে এভাবে শ্রেণিকক্ষে আনলে তা শিক্ষকতা পেশাকে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করবে।
হিউম্যানয়েড রোবট পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের জন্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আদিবাসী শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত একটি হাইস্কুলকে বেছে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুলটির প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীই আদিবাসী আমেরিকান। তবে এ বিষয়ে সেনেকা জাতিগোষ্ঠীর নেতারা গার্ডিয়ানের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সময়ের আলো/আরবিএন