নতুন বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি, পুরনো দুর্নীতির বাস্তবতা

বিশেষ প্রতিনিধি

জাতীয়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন ধারা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন বড় পরীক্ষার মুখে। রাজনৈতিক

2026-08-01T15:21:05+00:00
2026-08-01T15:22:24+00:00
 
  শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬,
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
নতুন বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি, পুরনো দুর্নীতির বাস্তবতা
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২১ পিএম  আপডেট: ০১.০৮.২০২৬ ৩:২২ পিএম
ঘুষ এখন অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। ছবি : প্রতীকী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন ধারা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন বড় পরীক্ষার মুখে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সরকারি সেবায় দুর্নীতি, ঘুষ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ কমেনি। বরং, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, নাগরিক সেবায় দুর্নীতির বিস্তার আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে- শুধু সরকার বদলালেই কি বদলায় রাষ্ট্রের পুরনো সংস্কৃতি, নাকি প্রয়োজন আরও গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের?

২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় পার করা নয়, বরং দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুর্বল প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক অনাস্থার জায়গা থেকে রাষ্ট্রকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়া। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল- রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে, পুরনো প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও দুর্নীতির কাঠামো সহজে বদলায়নি। বরং বিভিন্ন জরিপ ও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি ও ঘুষের প্রবণতা অব্যাহত ছিল।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘ন্যাশনাল হাউসহোল্ড সার্ভে ২০২৫’ সেই বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকদের প্রায় ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় এই পরিমাণ বেড়েছে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ।


জরিপে দেখা যায়, অন্তত একটি সরকারি সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার। এর আগে, এই হার ছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার সেবা পাওয়ার জন্য ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালে এ হার ছিল ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ।

দুর্নীতির শিকার হলেও অনেক মানুষ অভিযোগ করেননি। জরিপ অনুযায়ী, ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ অভিযোগ করার প্রয়োজন মনে করেননি। তাদের ধারণা ছিল, প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভেতরেই দুর্নীতি এতটা বিস্তৃত যে অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে পাসপোর্ট সেবা, বিচার বিভাগীয় সেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং ভূমি প্রশাসন খাতে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ঘুষ এখন অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকদের একটি বড় অংশ মনে করে ঘুষ দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, নিম্ন আয়ের মানুষ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর।’

বিশ্লেষকদের মতে, জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো- রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হলেও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন আরও কঠিন। গণআন্দোলনের শক্তিকে টেকসই সংস্কারে রূপ দিতে না পারলে জনগণের আস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   নতুন বন্দোবস্ত  প্রতিশ্রুতি  দুর্নীতি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: