শিশুদের নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলা এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে বড় ধরনের আইনি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে টেক জায়ান্ট মেটা। প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পরপরই এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই মামলাটি আদালতে দাখিল করেছিলেন। মামলার মূল অভিযোগে বলা হয়, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের খুব সহজেই যৌন হয়রানিকারীদের সংস্পর্শে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের সামনে বিভিন্ন অ্যাডাল্ট কনটেন্ট হাজির করছে। শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় কোম্পানিটির এই চরম ব্যর্থতাই পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পথ তৈরি করে।
মামলার প্রথম ধাপের বিচারিক পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পান, মেটার সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদমগুলো বারবার অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগের দিকে পরিচালিত করছে। আদালতের মতে, এই ধরনের কার্যক্রম অঙ্গরাজ্যের প্রচলিত ভোক্তা সুরক্ষা আইনের পরিষ্কার লঙ্ঘন।
মামলার দ্বিতীয় ধাপের রায়ে বিচারক আরও কঠোর ও নজিরবিহীন অবস্থান নেন। তিনি রায়ে উল্লেখ করেন, মেটার কার্যক্রম এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যা জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই কারণেই মেটার কর্মকাণ্ডকে আইনগতভাবে ‘জনদুর্ভোগের কারণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিশু নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে মেটার বিরুদ্ধে আসা এটিই সবচেয়ে বড় জরিমানা। এর চেয়েও বড় তাৎপর্য হলো, প্রযুক্তি খাতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জনদুর্ভোগের কারণ’ হিসেবে অভিহিত করল।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, যেমন একটি কারখানার দূষণ শুধু ওই কারখানার সীমানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, ঠিক তেমনি মেটার প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর প্রভাবও শুধু অনলাইনেই আটকে নেই। এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব শিশু, তাদের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার দৈনন্দিন কার্যক্রম ও নিরাপত্তার ওপরও পড়ছে।
সময়ের আলো/জেডি