সংস্কারের সুফল নিশ্চিত করতে চাই সুষ্ঠু বাস্তবায়ন

সম্পাদকীয়

মতামত

দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একটি হচ্ছে জুলাই-জুনের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালু করা, আরেকটি হচ্ছে র‍্যাবের পরিবর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন

2026-08-19T05:21:35+00:00
2026-08-19T05:21:35+00:00
 
  বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬,
৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
মতামত
অর্থবছর পুনর্বিন্যাস ও এসআরবি গঠনের উদ্যোগ
সংস্কারের সুফল নিশ্চিত করতে চাই সুষ্ঠু বাস্তবায়ন
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২১ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একটি হচ্ছে জুলাই-জুনের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালু করা, আরেকটি হচ্ছে র‍্যাবের পরিবর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের জন্য নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা চলছিল। সরকারের যুক্তি হলো, অর্থবছরের শেষ ভাগ বর্ষাকালে পড়ায় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা সমস্যা তৈরি হয়। 

অর্থবছর এপ্রিল-মার্চে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জলবায়ু ও উন্নয়ন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সংস্কার হতে পারে। বর্তমান ব্যবস্থায় অর্থবছরের শুরুতে ও শেষে বর্ষার প্রভাবে অবকাঠামো নির্মাণ ব্যাহত হয়। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পে বিলম্ব ঘটে, খরচ বাড়ে। 

এ কারণে শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করে বিল উত্তোলনের সংস্কৃতি প্রায় প্রতি বছরই দেখা যায়। নতুন সময়সূচিতে অর্থবছরের শুরু এবং শেষের পর্যায়ের বড় অংশই শুষ্ক মৌসুমে পড়বে। এতে সড়ক, সেতু, ভবন, ড্রেনেজসহ অবকাঠামো প্রকল্প পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে। কৃষি উৎপাদন, উন্নয়ন ব্যয় এবং সরকারি পরিকল্পনার মধ্যেও একটি স্বাভাবিক সময়গত সমন্বয় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে অর্থবছরের ক্যালেন্ডার বদলালেই যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে তা নয়। বাজেট বাস্তবায়নের দুর্বলতা, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, প্রকল্প ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা কিংবা প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করাও জরুরি। আশা করি সরকার এ বিষয়েও মনোযোগ দেবে।

এসআরবি গঠনের উদ্যোগও কেবল একটি বাহিনীর নাম পরিবর্তনের বিষয় নয়। এটি আইন প্রয়োগকারী বিশেষায়িত বাহিনীর কাঠামোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সুযোগ। র‍্যাব দুই দশকে সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এর গ্রহণযোগ্যতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন আইন যদি বাহিনীর ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করে, মানবাধিকারকে আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এবং অভিযোগ তদন্তের স্বাধীন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, তবে এটি একটি প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


এসআরবি আইনের খসড়ায় বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটির বিধান এবং মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আশাব্যঞ্জক। তবে অভিযোগ তদন্তের স্বাধীনতা, সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা, সংসদীয় ও বেসামরিক নজরদারি এবং বাহিনীর সদস্যদের পেশাদার প্রশিক্ষণই নির্ধারণ করবে নতুন প্রতিষ্ঠানটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে। নতুন বাহিনী যেন রাজনৈতিক ব্যবহারের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু সেই বাহিনীকে অবশ্যই আইনের অধীনেই পরিচালিত হতে হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। একদিকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সময়সূচিকে বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় বিতর্কিত একটি কাঠামোকে নতুন আইন ও জবাবদিহির ভিত্তিতে পুনর্গঠনের উদ্যোগ ইতিবাচক। 

সংস্কারের ঘোষণাই সব নয়। এর যথাযথ বাস্তবায়নই আসল কথা। অর্থবছর পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট রূপান্তর পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয়। এসআরবির জন্য প্রয়োজন আইনের সুস্পষ্ট এখতিয়ার, স্বাধীন তদারকি, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদার নেতৃত্ব। আমরা আশা করব, এই দুই ক্ষেত্রে সংস্কারের সুফল জনগণ পাবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 


  বিষয়:   সংস্কার  সুফল  নিশ্চিত  বাস্তবায়ন 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: