বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের অন্যতম আপসহীন পথপ্রদর্শক ভাষাসৈনিক কমরেড মোহাম্মদ তোহা। তৎকালীন নোয়াখালী (বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর) উপজেলার হাজিরহাটের এক সম্ভ্রান্ত হাজী পরিবারে ১৯২২ সালের ২ জানুয়ারি এই মহান বিপ্লবী জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান সংগঠক ও রাজপথের অকুতোভয় নেতা। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সোচ্চার থাকার কারণে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী তাকে দীর্ঘ দুই বছর কারারুদ্ধ করে রাখে। কারামুক্তির পর তিনি নিজেকে পুরোপুরি উৎসর্গ করেন কৃষক, শ্রমিক ও শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। তার অসামান্য জনপ্রিয়তার ফলশ্রুতিতে ১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন।
১৯৮৭ সালের ২৯ নভেম্বর এই চিরবিপ্লবী নেতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার স্মৃতি ও আদর্শকে ধরে রাখতে কমলনগরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘কমরেড তোহা স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়’ এবং হাজিরহাটের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা হয়েছে ‘কমরেড তোহা স্মৃতিসৌধ’। আজো শোষিত-বঞ্চিত মানুষের পক্ষে তার জীবনসংগ্রাম ও ত্যাগ নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য এক অনুকরণীয় অনুপ্রেরণা।
সময়ের আলো/জোই