রেললাইন ভেঙে যাওয়া এবং ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় দুই দফায় রাজশাহীর সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রেললাইন ভেঙে যাওয়ার পর মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হলে রাজশাহীর হরিয়ানে ঢালারচর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে আবারও বন্ধ হয়ে যায় রেল যোগাযোগ। দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার কাজ চালানোর পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার লোকমানপুর স্টেশন সংলগ্ন ২২৭/০ নম্বর রেল পিলারের কাছে ভাঙা শনাক্ত হলে রেলওয়ের কর্মীরা মেরামত কাজ শুরু করে। এ সময় রাজশাহীর সঙ্গে সব ধরনের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, কমিউটার ও মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো আব্দুলপুর ও রাজশাহী স্টেশনে আটকা পড়ে। পরে ভাঙা অংশে জরুরি মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হয় বলে জানা যায়।
অপরদিকে, বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে রাজশাহীর হরিয়ান রেলস্টেশনের অদূরে ঢালারচর এক্সপ্রেসের ‘ট’ নম্বর বগি লাইনচ্যুত হয়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করা হয়। বিকেল ৩টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
জানা গেছে, উদ্ধারের পর লাইনচ্যুত বগিটি রিলিফ ট্রেনে করে হরিয়ান স্টেশনে নেওয়া হয়। বগিটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় সেটি সেখানেই রাখা হবে। বাকি বগিগুলো নিয়ে ঢালারচর এক্সপ্রেস হরিয়ান স্টেশন থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যাবে। পরে ট্রেনটি রাজশাহী থেকে পাবনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
এর আগে পাবনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী ঢালারচর এক্সপ্রেস হরিয়ান রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনটির ‘ট’ নম্বর বগির একটি যন্ত্রাংশ ভেঙে পড়ে। চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটি প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে থামে। এ সময় বগি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন। এ ঘটনায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ছাড়াও সারদাহ, নন্দনগাছী ও আড়ানী স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা রেলওয়ের কর্মীরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সময়ের আলো/আতা