সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনের প্রতি মুহূর্তের নানা গল্প প্রকাশ করা এখন অধিকাংশ মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার ছবি, জন্মদিনের বিশেষ আয়োজন কিংবা সন্তানের স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিনের মুহূর্ত— সবই অকাতরে শেয়ার করছেন ব্যবহারকারীরা।
আপাতদৃষ্টিতে এসব সাধারণ পোস্ট মনে হলেও এগুলো থেকেই আপনার পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, দৈনন্দিন চলাফেরা ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে যাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। পরবর্তীতে এসব তথ্য ব্যবহার করে ঘটছে অনলাইন প্রতারণা, পরিচয় চুরি, ফিশিং এবং নানা ধরনের সাইবার হয়রানি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা তাই অনলাইনে কিছু প্রকাশের আগে একটি সহজ নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিচ্ছেন— ‘পোস্ট করার আগে ভাবুন’।
কুইক হিল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হরিশ কুমার জানান, কোনো তথ্য একবার অনলাইনে প্রকাশ্যে এলে তা অন্যের পক্ষে সংরক্ষণ বা পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত সহজ। অপরাধীরা ব্যবহারকারীর বিভিন্ন পোস্টের টুকরো টুকরো তথ্য একত্র করে তার বিস্তারিত প্রোফাইল ও জীবনযাত্রার ধরন বানিয়ে ফেলে।
এরপর সেই ব্যক্তি বা তার স্বজনদের লক্ষ্য করে শুরু হয় প্রতারণা। অনেক সময় পরিচিত মানুষের নাম-ছবি ব্যবহার করে খোলা হয় ভুয়া অ্যাকাউন্ট, যা দিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় অর্থ। সাইবার বিশেষজ্ঞরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি নির্দিষ্ট তথ্য শেয়ার করার বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন—
ব্যক্তিগত তথ্য ও ঠিকানা
মোবাইল ফোন নম্বর, ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানা, বাড়ির নির্দিষ্ট ঠিকানা ও কর্মস্থলের সংবেদনশীল তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা যাবে না।
ভ্রমণ ও অবস্থান
তাৎক্ষণিক অবস্থান, কবে বেড়াতে যাচ্ছেন বা কতদিন বাড়ি খালি থাকবে— এজাতীয় তথ্য চুরি বা ট্র্যাকিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। বিমানের বোর্ডিং পাস, টিকেট কিংবা হোটেল বুকিংয়ের ছবি দেওয়া পুরোপুরি অনিরাপদ।
পরিচয়পত্র ও আর্থিক তথ্য
জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক কার্ড বা আর্থিক লেনদেনের স্ক্রিনশট কখনোই পোস্ট করা উচিত নয়।
নিরাপত্তা প্রশ্ন ও পাসওয়ার্ড সংকেত
পোষা প্রাণীর নাম, শৈশবের বিদ্যালয় বা পাসওয়ার্ড রিকভারির উত্তর দেওয়া যায় এমন যেকোনো ইঙ্গিত এড়িয়ে চলুন।
মাল্টারবিটের ব্যবসায়িক ইউনিটের প্রধান বরুণ গ্রোভার উল্লেখ করেন, দৈনন্দিন রুটিনের সামান্য পোস্টও একত্র করলে ফিশিং ও সাইবার ট্র্যাকিংয়ের পথ তৈরি হয়।
শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার ‘প্রাইভেসি সেটিংস’ পরিবর্তন করলেই সম্পূর্ণ সুরক্ষা মেলে না, ব্যবহারকারীর নিজস্ব সচেতনতাই আসল নিরাপত্তা। পোস্ট করার আগে ভাবুন— এতে কি আপনার বর্তমান অবস্থান বা পরিচয় অন্য কারও হাতে চলে যাচ্ছে?
সময়ের আলো/এসএকে