বঙ্গোপসাগরের গভীরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রামের একটি বিশাল আকৃতির ইলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে প্রকাশ্যে নিলামে মাছটির দাম ওঠে ৭ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা দর ধরে মাছটি কিনে নেন স্থানীয় ‘মা মনি ফিশ’ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মিজান।
এর আগে মঙ্গলবার পায়রা বন্দরসংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্রে জাল ফেলেন জেলে সোহরাফ গাজী। পরদিন সকালে জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই ইলিশটি উঠে আসে।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে বিক্রির জন্য মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন সোহরাফ গাজী। সেখানে প্রকাশ্যে নিলামে প্রতি মণ ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দরে মাছটির দাম নির্ধারিত হয়।
প্রায় এক দশক ধরে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করে আসছেন জেলে সোহরাফ গাজী। আনন্দিত কণ্ঠে তিনি বলেন, সাধারণত জালে এত বড় ইলিশ সচরাচর ধরা পড়ে না। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর জালে এমন বড় আকৃতির ইলিশ পেলাম।
মাছটির ক্রেতা মিজান জানান, বাজারে এখন সচরাচর এ আকারের ইলিশ পাওয়া যায় না বলেই তিনি শখ করে নিলামে এটি কিনেছেন। পরবর্তীতে মাছটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে বাজারে বড় ইলিশের দেখা মিললেও এর আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে। স্থানীয় বাসিন্দা জামাল ঘরামি আক্ষেপ করে বলেন, প্রতিকেজি ইলিশের দাম ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা হলে নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে তা কেনা অসম্ভব। আগে বছরের অন্তত যেকোনো সময়ে ইলিশ কেনার সামর্থ্য থাকলেও এখন তা অনেকের কাছেই কেবল কল্পনার বিষয়।
মৎস্যবিজ্ঞানীদের মতে, নদীতে বড় ইলিশের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ার পেছনে রয়েছে নানা নেতিবাচক কারণ। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার জানান, নির্বিচারে ছোট ইলিশ শিকার, নদীর নাব্য ও পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, বিভিন্ন বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে মাছের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতি বড় ইলিশ উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পানিদূষণ, খাদ্য বা প্ল্যাঙ্কটনের স্বল্পতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং লবণাক্ততার তারতম্যের মতো পরিবেশগত কারণগুলোও ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, গভীর সমুদ্রে এ ধরনের বড় ইলিশ ধরা পড়া অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। এটি মূলত সরকারের ইলিশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা পালনের সুফল। বড় ইলিশে তুলনামূলক ফ্যাট বেশি থাকায় এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রয়োজনীয় ভিটামিনও প্রচুর পরিমাণে থাকে। জালের জালের প্রশস্ততা আরও বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ইলিশ আরও বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই