দীর্ঘদিন পলি ও মাটিতে ভরাট হয়ে থাকা পাঁচটি খাল পুনঃখননের পর ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নে পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরেছে। খালগুলো সচল হওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকটও কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কয়েক হাজার কৃষক। এতে কৃষিজমিতে বাড়ছে ফসলের আবাদ।
পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দিয়াকুল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আওতাধীন দিয়াকুল ড্রেনেজ উপ-প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচটি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। খালগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ১০ দশমিক ২৫ কিলোমিটার।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পলি জমে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে জমির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতো না। এতে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকত। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সেচের জন্য কৃষকদের বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে বাড়তি অর্থ ও সময় ব্যয় হতো।
খাল পুনঃখননের পর পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় দুই ধরনের সমস্যারই সমাধান হবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা। তাদের মতে, বর্ষায় জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে তা দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। আবার শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি থাকায় সহজেই সেচ দেওয়া যাবে।
রাজাপুর এলাকার কৃষক আবদুর রব হাওলাদার বলেন, আগে বৃষ্টি হলে জমির পানি সহজে নামত না। খাল ভরাট থাকায় পানি আটকে থাকত। এখন খাল পুনঃখনন হওয়ায় পানি দ্রুত নামবে। এতে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।
মহাদিপুর এলাকার কৃষক বাদল খান বলেন, সেচের জন্য অনেক সময় বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়েছে। খালে পানি থাকলে সেই খরচ কমবে। সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া যাবে। এতে কৃষিকাজ সহজ হবে।
নাগপাড়া এলাকার কৃষক ইলিয়াস হোসেন বলেন, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার খাল সচল হয়েছে। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি দ্রুত বের হয়ে যাবে, আর শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানিও পাওয়া যাবে। এতে আমরা কৃষকেরা উপকৃত হব।
দিয়াকুল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, পলি জমে খালগুলো দীর্ঘদিন ভরাট থাকায় পানি নিষ্কাশন ও সেচ— দুই ক্ষেত্রেই কৃষকেরা সমস্যায় ছিলেন। পুনঃখননের ফলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। প্রয়োজনের সময় কৃষকেরা সেচের পানি পাবেন এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। তবে এই সুফল ধরে রাখতে খালগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।
পোনাবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান মাস্টার বলেন, কৃষির জন্য পানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালগুলো পুনঃখননের ফলে কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা কমবে। এর সুফল ধরে রাখতে খালগুলো দখল ও ভরাট হওয়া থেকে রক্ষা করা দরকার।
সদর উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী সনজিৎ কুমার বলেন, পোনাবালিয়া ইউনিয়নের কৃষকদের পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেই খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা সেচের সুবিধা পাবেন। খালগুলোর সুফল দীর্ঘদিন ধরে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ প্রয়োজন।
সময়ের আলো/জোই