পয়েন্ট অর্জনের শেষ সুযোগ, শেষ লড়াই। ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। জাকার্তার গেলোরা বাঙ্কামো স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল-সবুজের দল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। র্যাঙ্কিং ও শক্তির বিচারে অনেকটাই এগিয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে হামজা-জামালদের। তবে আগের দুই ম্যাচের হতাশা পেছনে ফেলে নিজেদের সেরাটা দিয়ে চমক দেখাতে চায় বাংলাদেশ।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান ১১৮, বাংলাদেশের ১৮১। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই গ্রুপের তলানিতে রয়েছে তারা। বিপরীতে এক জয় ও এক ড্রয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। সবশেষ ম্যাচে ১০ জনের দল নিয়েও মালয়েশিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে গারুদারা।
মুখোমুখি লড়াইয়েও এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া। দুদল এখন পর্যন্ত সাতবার মাঠে নেমেছে। বাংলাদেশ জিতেছে একবার, ড্র হয়েছে দুই ম্যাচে, আর চারটিতে জয় পেয়েছে ইন্দোনেশিয়া। বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি এসেছিল ৪১ বছর আগে, ১৯৮৫ সালের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে। ঢাকার মাঠে সেবার কায়সার হামিদ ও আশরাফুদ্দিন আহমেদ চুন্নুর গোলে ইন্দোনেশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সবশেষ ২০২২ সালের ১ জুন বান্দুংয়ে মুখোমুখি হয়েছিল দুদল।
ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার মাঠেই স্বাগতিকদের রুখে দিয়েছিল বাংলাদেশ। রক্ষণভাগের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচটি শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ড্রয়ে।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য হুমকি হতে পারে ইন্দোনেশিয়ার থম হায়ে। মাঝমাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় তিনি। ৩১ বছর বয়সি এই অভিজ্ঞ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারকে দলের ‘মস্তিষ্ক’ বলা যায়। নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া হায়ে ডাচ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। হিরেনভিন ও ভিলেম টুর মতো ক্লাবের হয়ে এরেডিভিজিতে প্রায় ২০০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
অন্যদিকে বাংলাদেশের একাদশে ফিরতে পারেন মিতুল মারমা। সেন্টার ডিফেন্সে তারিক কাজী ও জিদান ইউসুফকে দেখা যেতে পারে। ডান পাশে সাদ উদ্দিন এবং বাঁয়ে জায়ান আহমেদের ওপরই আস্থা রাখতে পারেন কোচ টমাস ডুলি। মাঝমাঠে থাকছেন বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা হামজা চৌধুরী। তার সঙ্গে শামিত সোম ও অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকেও দেখা যেতে পারে। আক্রমণভাগে রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন ও শুকি ইতোফুসাতেই ভরসা রাখছেন কোচ।
স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে কঠিন ম্যাচের আগে নিজেদের উন্নতির জায়গাগুলো নিয়েই ভাবছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মতে, ‘প্রথম ম্যাচের তুলনায় দ্বিতীয় ম্যাচে দলের আত্মবিশ্বাস ও পারফরম্যান্স দুটোই বেড়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে আরও এক ধাপ উন্নতি করতে চান তারা। ‘প্রথম ম্যাচে পুরো দল ভালো খেলতে পারেনি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা ভালো ছিলাম, আত্মবিশ্বাসও বেশি ছিল। আশা করি তৃতীয় ম্যাচে আরও ভালো পারফরম্যান্স করতে পারব’, বলেন জামাল।
ঘরের মাঠে ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। এমনটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গাগুলো বিশ্লেষণ করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজানোর কথা জানিয়েছেন জামাল। ‘ইন্দোনেশিয়া ঘরের মাঠে খেলবে, তাই তারা অনেকটা আধিপত্য বিস্তার করবে, এটা আমরা জানি। তবে তাদের বিপক্ষে আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে। কোচের সঙ্গে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব। সেট পিস নিয়েও কাজ করতে হবে। তাদের দুই স্ট্রাইকারও খুব ভালো, তাই তাদের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে’, বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
র্যাঙ্কিংয়ের বড় ব্যবধান কিংবা প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে না ভেবে নিজেদের খেলাতেই মনোযোগ দিতে চান জামাল। ফুটবলে যেকোনো কিছু সম্ভব বলেও আশাবাদী তিনি, ‘ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব। আমরা আশা করছি ভালো একটা ম্যাচ খেলতে পারব। জয় পেলে অবশ্যই ভালো ফল হবে, ড্র হলেও সেটি ভালো ফল। তবে আমরা চাই সমর্থকদের একটি ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে