শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সহিংসতার জেরে সোমবার (৫ অক্টোবর) ফ্রান্সের ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুলে ক্লাস আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে।
গত সপ্তাহে রাজধানী প্যারিসের একটি স্কুলকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট, দীর্ঘ ক্লাসের সময়সূচি এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবনসহ শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আন্দোলন শুরুর পর ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন শিক্ষা বিভাগের ৭৮ জন কর্মী। শুক্রবার পর্যন্ত বিক্ষোভের কোনো না কোনোভাবে প্রভাব পড়েছে ৭৩৫টি স্কুলে।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, আন্দোলন শুরুর পর এ পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। শুক্রবার এক দিনেই গ্রেফতার করা হয় ১ হাজার ৭৪৭ জনকে।
শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার আবারও বড় আকারে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। একই সঙ্গে শিক্ষক সংগঠনগুলোও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কর্মীদের সমস্যার সমাধানে সরকার আরও পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে ক্লাস চালু রাখা, স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্লাসের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্ল্যাটফর্মকে আরও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ রয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি