ইংল্যান্ডের একটি মার্কিন নিয়ন্ত্রিত সামরিক ঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই ঘাঁটিতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা নিয়ে তদন্ত শুরুর পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংবেদনশীল সামরিক তৎপরতা নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দেন।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অভিযানের শুরুর দিক থেকেই ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ ও বি-১ বোমারু বিমান পরিচালিত হয়ে আসছিল। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো রোববারও বেশ কয়েকটি বি-১ বোমারু বিমান ঘাঁটি ছেড়ে যেতে দেখেছে।
এদিকে, ইরানকে ঘিরে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে হামলার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
গত সপ্তাহে মধ্য লন্ডন থেকে এক দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে একটি নিরাপত্তা ঘটনা ঘটে। তদন্তের অংশ হিসেবে মোট ছয়জনকে আটক করে পরে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছে। তবে ইরান এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে তেহরান অতীতে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ওপর হামলায় ব্যবহার করা যেকোনও সামরিক ঘাঁটিকে তারা বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে কয়েক দশক ধরে মার্কিন বোমারু বিমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বড় আকারেই রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সম্প্রতি মোতায়েন করা ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপও ওই অঞ্চলের দিকে এগোচ্ছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ