প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ পিএম
বেলজিয়ামের লিয়েজে ওয়ালোনিয়া-ব্রাসেলস ফেডারেশন সরকারের শিক্ষা সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে ৭ অক্টোবর বিক্ষোভে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি : রয়টার্সবেলজিয়ামে শিক্ষা সংস্কার, ব্যয় সংকোচন নীতি ও পুলিশের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। শিক্ষা খাতে অর্থায়ন, টিউশন ফি, গণপরিবহনের ব্যয়, কর্মপরিবেশ ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে বিভিন্ন দাবিতে শনিবার রাজধানী ব্রাসেলসের পাশাপাশি দেশটির আরও একটি শহরে শিক্ষার্থী ও এ আন্দোলনের পক্ষে থাকা মানুষজন বিক্ষোভ করেন। এ সময় ব্রাসেলসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিএর বরাতে আনাদুলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাসেলস-মিদি রেলস্টেশনের কাছে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধক তৈরি করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের দিকে এগিয়ে যায়।
এর আগে এদিন সকালে ব্রাসেলস সেন্ট্রাল স্টেশনের কাছে প্রায় শত শত শিক্ষার্থী ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জড়ো হন। তাদের মধ্যে শিক্ষক ও ট্রেড ইউনিয়নকর্মীরাও ছিলেন। শুরুতে বিক্ষোভের অনুমতি না থাকলেও পরে তাদের ব্রাসেলস-মিদি স্টেশন অভিমুখে মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং কয়েকজনকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দমন-পীড়ন ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। গত ৯ অক্টোবর দেশটির ট্রেড ইউনিয়নের একটি বিক্ষোভের পাশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার পর এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এদিকে, দেশটির লিয়েজ শহরে প্রায় ২৫০ জন তরুণ লিয়েজ-গুইয়েমিনস স্টেশনের বাইরে জড়ো হন। বেলগা সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখান থেকে তারা শান্তিপূর্ণভাবে শহরের কেন্দ্রের দিকে মিছিল করেন। এ কর্মসূচিতে শ্রমিক ও অভিভাবকরাও অংশ নেন।
শিক্ষা খাতে অর্থায়ন, টিউশন ফি, গণপরিবহনের ব্যয়, কর্মপরিবেশ ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান তারা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আর্থিক চাপের কারণে অনেক তরুণকে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে হয়। এতে কারও কারও পক্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে এবং তারা শিক্ষা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রতিও সংহতি জানান কয়েকজন অংশগ্রহণকারী।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি