প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
বাবুগঞ্জে ভুয়া নারী চিকিৎসক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা। ছবি : সময়ের আলোবরিশালের বাবুগঞ্জে ১২ দিনের ব্যবধানে আরেক ভুয়া চিকিৎসকের সন্ধান পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ওই নারী এবং একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার মাধবপাশা বাজারে অভিযান দুটি পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা। ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় এ জরিমানা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, এনএসআই সদস্যরা ছদ্মবেশে রোগী সেজে মাধবপাশা বাজারে তাসলিমা আক্তার আন্নি নামের এক নারীর চেম্বারে চিকিৎসাসেবা নেন। অভিযোগ রয়েছে, এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে তিনি মা ও শিশুবিষয়ক রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। পাশাপাশি নিজের ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এরপর একই বাজারের পল্লবী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। প্রয়োজনীয় সনদ ও প্যাথলজিস্ট ছাড়াই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রতিবেদন দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষাগারের পরিবেশ যথাযথ না থাকার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. সাব্বির সরদারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সূত্র জানায়, এনএসআই সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম গোপনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এনএসআই সদস্যদের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার একটি ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়। ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের দাবি, ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার এবং ভুয়া সনদ দেখিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে ওই অভিযান পরিচালিত হয়। সে সময় কথিত ভুয়া চিকিৎসক আলীমুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা।
সময়ের আলো/জোই