বান্দরবানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬৭ শতাংশ শিক্ষক পদ শূন্য

কিকিউ মারমা, বান্দরবান

সারাদেশ

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এমনিতেই কঠিন। এর মধ্যে জেলার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র

2026-11-01T14:21:44+00:00
2026-11-01T14:21:44+00:00
 
  রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬,
১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
বান্দরবানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬৭ শতাংশ শিক্ষক পদ শূন্য
কিকিউ মারমা, বান্দরবান
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ২:২১ পিএম 
বান্দরবানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছবি : সময়ের আলো
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এমনিতেই কঠিন। এর মধ্যে জেলার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র শিক্ষক সংকট। জেলার সাতটি উপজেলায় আটটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে অনুমোদিত ২২৩টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৩ জন। শূন্য রয়েছে ১৫০টি পদ, যা মোট পদের প্রায় ৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান কার্যক্রম।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ হাজার ৫৫৬ জন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান, নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যক্রম শেষ করা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষকসংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এতে একদিকে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানের সরকারি উচ্চবিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষকসংকট সবচেয়ে প্রকট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে অনুমোদিত ৫২টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন। অন্যদিকে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ২৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত আছেন মাত্র চারজন।


এ ছাড়া আলীকদম সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ১৭টি পদের বিপরীতে চারজন, রুমা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ১৫টি পদের বিপরীতে পাঁচজন, থানচি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ১৫টি পদের বিপরীতে ছয়জন, লামা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ২৭টি পদের বিপরীতে নয়জন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ১৬টি পদের বিপরীতে চারজন শিক্ষক কর্মরত আছেন।

বান্দরবান সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ উদ্দীন বলেন, শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ঠিকভাবে চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এভাবে বিদ্যালয়টি ধুঁকে ধুঁকে চলছে।

তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ে ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৫৩টি শিক্ষক পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। এ ছাড়া ১৪টি দাপ্তরিক কর্মচারীর পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। ফলে শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।

আলীকদম সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট প্রকট। দীর্ঘদিন মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পর আরও একজন শিক্ষক দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চারজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

থানচি উপজেলার অভিভাবক মংচিং নং মার্মা বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট অনেক আগে থেকেই রয়েছে। গ্রামের ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার আগ্রহ থাকলেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় অনেকে সে সুযোগ পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে তাদের মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে হচ্ছে।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় কর্মরত শিক্ষকদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। বিশেষ করে গণিত, বিজ্ঞানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতিও তৈরি হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষকদের আবাসন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। এসব সুবিধার অভাবে শিক্ষকদের পদায়ন ও দীর্ঘমেয়াদে কর্মস্থলে ধরে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকের সংকট বেশি। জেলার বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদের তালিকা তৈরি করে ইতোমধ্যে বিভাগীয় প্রধানের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষকসংকটের বিষয়টি তাদের জানা আছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক মাসের মধ্যে একদল শিক্ষক পদায়ন করা হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শূন্য পদ পূরণের চেষ্টা সরকারের থাকবে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   বান্দরবান  সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়  শিক্ষক পদ শূন্য  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: