বেড়িবাঁধের ৫০০ কোটির কাজে ১৯ সিন্ডিকেট

মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

সারাদেশ

চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীতে ২৯৩ কোটি টাকার বাঁধের ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে ৪৯৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে

2025-12-23T23:36:07+00:00
2025-12-23T23:36:07+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
বেড়িবাঁধের ৫০০ কোটির কাজে ১৯ সিন্ডিকেট
মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৩৬ পিএম   (ভিজিট : ২৪৪৮)
বাঁশখালী উপজেলায় উপকূলজুড়ে ১৯টি গ্রুপ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে কাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীতে ২৯৩ কোটি টাকার বাঁধের ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে ৪৯৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। তবে কাজের শুরুতেই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দাপট, নোনা বালু ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উপকূলজুড়ে বিএনপির অন্তত ১৯টি গ্রুপ বা সিন্ডিকেট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে কাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্ধারিত সময় ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে আদৌ কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল বলেন, লবণাক্ত পানি দিয়ে যে বালু আনলোড করা হয়েছিল ওইগুলো আমরা পূর্বেই বাতিল করেছি। সার্বক্ষণিক আমরা নজর রাখছি। পাথরগুলো দুবাই থেকে ঠিকাদাররা ফেলিকন শিপ দিয়ে আনলোড করে। সেগুলো হালকা ময়লাযুক্ত হয়। তিনি আরও বলেন, ব্লকগুলো বুয়েট থেকে টেস্ট করে মান যদি ভালো না হয় তা হলে আর্থিকভাবে ঠিকাদারের ক্ষতি। কারণ টেস্টের ফলাফল খারাপ আসলে পরবর্তী সময়ে পুনরায় ব্লক তৈরি করে দিতে হবে। 


অভিযোগ উঠেছে- খানখানাবাদে ঠিকাদারকে কাজ করতে দিচ্ছে না সিন্ডিকেট। তারা কাস্টিং করবে বলে বলে একেকজনে একেকটা মেশিন নিয়ে বসে আছে। ঠিকাদারকে বাইরে থেকে শ্রমিক আনতে দিচ্ছে না। প্রথমে বালু নিয়েও এই রকম সমস্যা সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাদের গ্রুপিংয়ের কারণে কাজের গতি খুবই ধীর। তারা নিজেরাও করছে না, ঠিকাদারকেও করতে দিচ্ছে না। পদে পদে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

পিডিএলের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় কিছু মানুষ জোরপূর্বক বালু আনলোড করেছে। আমরা অনেকের বালু গ্রহণ করিনি। নলকূপ ও পুকুরের পানি দিয়ে বালু আনলোড করা হবে। ছনুয়ায় স্থানীয় বেতাগী বালু দিয়ে সিসি ব্লক বানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই বালু প্রথম দিকে জোরপূর্বক দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে তাদের বালু নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। কোম্পানির পক্ষ থেকে সিলেটি বালুর বলগেট আনা হয়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত মাত্র ২ দশমিক ৫০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি হয়েছে। প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল), আরএফএল, হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স ও জামিল ইকবাল নামের চারটি প্রতিষ্ঠান কাজ পেলেও স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট জটিলতায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছু স্থানে নানা কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। 


১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁশখালী উপকূল। সেই ক্ষতি ঠেকাতে ২০১৫ সালের ১ মে থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে ২০৯ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। পরে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও ঠিকাদারদের আপত্তির কারণে প্রকল্পের ব্যয় প্রথমে ২৫১ কোটি ২৯ লাখ, পরবর্তী সময়ে ২৯৩ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। 

সে সময় ৩৪ প্যাকেজে খানখানাবাদে ৪ হাজার ৫০০ মিটার, ছনুয়ায় ৩ হাজার ২০০ মিটার, সাধনপুরে ২ হাজার ৭৯ মিটার, পুকুরিয়ায় ১ হাজার ২৬৯ মিটার, গণ্ডামারায় ৯০০ মিটার এবং বাহারছড়ায় ৫০০ মিটার বেড়িবাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়। তবে বর্তমানে সেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ব্লক ধস ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। নতুন প্রকল্পে ৬ দশমিক ৪১০ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও ঢাল সংরক্ষণ কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে খানখানাবাদ ইউনিয়নে ২ হাজার ৬১০ মিটার, বাহারছড়ায় ১ হাজার মিটার, ছনুয়ায় ২ হাজার ৮০০ মিটার এবং সাধনপুরে ১ হাজার ১০০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ অন্তর্ভুক্ত।

উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নে ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৮০০ মিটার বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও ঢাল সংরক্ষণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরএফএল ও পিডিএল। 

স্থানীয়দের অভিযোগ- ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক চাপ দিয়ে এখানে কাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিএনপির ৯টি সিন্ডিকেট। বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেল থেকে লবণাক্ত পানি দিয়ে আনলোড করা বালু দিয়ে তৈরি হচ্ছে বাঁধের সিসি ব্লক। অন্যদিকে সিসি ব্লকে সিলেটি ২ দশমিক ৫ এফএম বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের স্থানীয় বেতাগী বালু ও ময়লাযুক্ত পাথর। এতে ১০৭ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছনুয়ায় চলমান বেড়িবাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ভাগবাটোয়ারা করে নেয় বিএনপির ৯টি সিন্ডিকেট। এদের মধ্যে বালু সরবরাহ ও লেবার কাস্টিংয়ের জন্য ছনুয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ হোসাইন ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইমরান আল ইমরান এয়ার ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে ১টি মেশিন, আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে ২টি মেশিন, বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরীর মালিকানাধীন রাবেয়া ট্রেডার্সের সাপ্লাইয়ার পক্ষে আবদুল হাকিম ও জাকের ১টি মেশিন, ছনুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুর আলমের মালিকানাধীন হাজী ট্রেডার্সের পক্ষে ১টি মেশিন, জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ১টি মেশিন, জোনাইদ ও ইসলামের নেতৃত্বে ১টি, মামুনের ১টি মেশিন, কাইছারের ১টি মেশিন এবং ছনুয়া ইউনিয়ন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কাদেরের নেতৃত্বে ১টি মেশিন থাকলেও তিনি এখনও কাজ চালু করতে পারেননি। 

এ ছাড়া পাথর, সিমেন্ট ও বালুসহ যাবতীয় লোড-আনলোডের কাজ পরিচালনা করেন জাকের উল্লাহ ও কাইছার আহমদ ছানুবী। তবে দুবাই থেকে ৩৪ ডাউন পাথর, গ্রিন টাচ করপোরেশন লিমিটেডের পক্ষে ২ দশমিক ৫ এফএম সিলেটি ও ব্যাপারি সাপ্লাইয়ার বেতাগী ১ দশমিক ৫ এফএম বালু, প্রিমিয়ার কোম্পানির সিমেন্ট সরাসরি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরপিএল-পিডিএলের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান পিডিএলের প্রজেক্ট ম্যানেজার মিরাজ।

সরেজমিন ছনুয়া বেড়িবাঁধ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় বেতাগী বালু ও সিলেটি বালুর দুটি স্তূপ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটি বালুর স্তূপটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনকে দেখানোর জন্য রাখা হলেও বেতাগী বালুর স্তূপ থেকে ব্লক তৈরির জন্য বালু নিয়ে যেতে দেখা যায় কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের।


গত ৩ জুলাই কুতুবদিয়া চ্যানেলের মনুমিয়াজী ঘাট এলাকায় বালু উত্তোলনের সময় দুটি ড্রেজার জব্দ করে কোস্ট গার্ডের টহল দল। সে সময় বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব রেজাউল হক চৌধুরীর মালিকানাধীন মেসার্স রাবেয়া ট্রেডার্স অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল। পরে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুটি ড্রেজার মালিককে ৪ লাখ টাকা জরিমানা ও ড্রেজার মাঝি মো. ইউসুফকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ- উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিমানার পরও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামেনি। বর্তমানে সেখানে ড্রেজার বসিয়ে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব লবণাক্ত বালু ব্লক তৈরির কাজে ব্যবহারের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চাপ দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

খানখানাবাদ ও সাধনপুরেও একই চিত্র। খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুলে ১৪২ কোটি টাকার কাজে রাজনৈতিকভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চাপ প্রয়োগ করে বালু, শ্রমিক ও লেবার কাস্টিংসহ যাবতীয় কাজের সাপ্লাইয়ার হিসেবে কাজ পরিচালনা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স থ্রি পয়েন্টের পক্ষে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরিফ, রেজাউল করিম ও খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তালুকদার ট্রেডিংয়ের পক্ষে বালু সাপ্লাইয়ার হিসেবে কাজ করছেন কাইদুল ওয়াদুদ, আশরাফ ও শাহেদ। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনবাদ জেনারেল ট্রেডিংয়ের পক্ষে কাজ করছেন আবদুল হান্নান। অভিযোগ রয়েছে- এদের সবাই স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং প্রভাব খাটিয়ে কাজগুলো বাগিয়ে নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম, রশিদ আহমদ, নজরুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ উপকূলবাসীর জীবন-মরণের প্রশ্ন। ২৯৩ কোটি টাকার আগের বাঁধ এখন জায়গায় জায়গায় ভেঙে পড়েছে। দুর্নীতি, নিম্নমানের সামগ্রী আর অনিয়মের কারণে আগের বাঁধের অস্তিত্ব বিলীন হতে বসেছে। এবারও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে কোন্দলের কারণে বেড়িবাঁধের কাজ চলছে ধীরগতিতে। তারা নিজেরাও কাজ করছেন না, আবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেও কাজ করতে দিচ্ছেন না।


খানখানাবাদ ইউনিয়নে কাজের শুরুতেই নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। গত ২৭ অক্টোবর কদমরসুল এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি আকন অভিযান পরিচালনা করে লবণাক্ত বালু ব্যবহারের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং লবণাক্ত বালু সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। সাধনপুরে ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ১০০ মিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান। সাধনপুরে ৭৫০ মিটার বেড়িবাঁধের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরএফএল।

কাজে বাধার বিষয়টি স্বীকার করে ছনুয়া ইউনিয়নে আরএফএল ও পিডিএলের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রজেক্ট ম্যানেজার মিরাজ বলেন, পাথর ও সিমেন্ট আমাদের কোম্পানির পক্ষ থেকে সরবরাহ করলেও বালু নিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রথম দিকে আমরা লবণাক্ত বালু গ্রহণ না করার পরও স্থানীয় ওই সিন্ডিকেট জোরপূর্বক বালু আনলোড করেছে। আমরা নিজেরা বালু আনলোড করতে চাইলেও দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত আমরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছি।

খানখানাবাদের বাসিন্দা মুবিন, শাহেদ ও রিদুয়ান জানান, প্রতিবাদ করলে মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখানো হচ্ছে। বিগত সময়ে দিনে আনলোড করলেও মানুষের চোখ এড়াতে এখন রাতের অন্ধকারে এই কাজ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্লক তৈরির পর ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে না। ব্লক তৈরির পর তৈরিকৃত ব্লকে পানি না দেওয়া ও ব্লক তৈরির সময় পাউবো কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে অনিয়ম হওয়ায় ব্লকগুলো বসানোর সময় ভেঙে যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৮ মে বাঁশখালীর উপকূল রক্ষায় ৭ হাজার ৫১০ মিটার কাজ ৬টি অংশে বিভক্ত করে ৪৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাস হয়। এর মধ্যে ছনুয়ায় ১০৭ কোটি টাকার প্রকল্পে ২ হাজার ৮০০ মিটার বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও ঢাল সংরক্ষণকাজ চলমান রয়েছে। ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। 


অন্যদিকে খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল গ্রামে ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও ঢাল সংরক্ষণ, সাধনপুরে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের ১ হাজার ১০০ মিটারের মধ্যে আরএফএলের অধীনে ৭৫০ মিটার কাজ চলমান থাকলেও রাজনৈতিক আন্তঃকোন্দলের কারণে বাকি রয়েছে ৩৫০ মিটার, খানখানাবাদের অন্য অংশে ৭২০ মিটার, বাহারছড়ায় ১ হাজার মিটার অংশের কাজ মেসার্স হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স এখন পর্যন্ত চালু করতে পারেনি। 

একই সঙ্গে খানখানাবাদ জিরো পয়েন্টে ৫৯০ মিটার জামিল ইকবালের মোবিলাইজেশনের কাজ চলমান থাকলেও সিসি ব্লকের কাজ শুরু করতে পারেনি। বাহারছড়ায় ১ হাজার মিটারের কাজ মেসার্স হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স তিনটি প্যাকেজেই ব্লক তৈরি শুরু করেছে। একই সঙ্গে খানখানাবাদ জিরো পয়েন্টে ৫৯০ মিটার জামিল ইকবালের কাজ ইতিমধ্যে চালু করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, উপকূলের মানুষের আশা প্রকল্পের বিপুল ব্যয় যেন সার্থক হয়। বেড়িবাঁধ যেন হয় টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী। কিন্তু নোনা বালু, নিম্নমানের সামগ্রী আর ধীরগতির কাজ যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আবারও ঝুঁকিতে পড়বে বাঁশখালীর লাখো উপকূলবাসীর জীবন ও জীবিকা।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   বেড়িবাঁধ  সিন্ডিকেট  চট্টগ্রাম  পানি উন্নয়ন বোর্ড  প্রকল্প 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: